✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-৩০, | ০০:৩৬:১৭ |আমেরিকা এবং যুক্তরাজ্যের দুই শতাব্দীর পুরনো ঐতিহাসিক মিত্রতায় এখন আক্ষরিক অর্থেই উত্তেজনার ঝড় বইছে। ওয়াশিংটন এবার সরাসরি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ব্রিটেনকে নজিরবিহীন হুমকি ছুড়ে দিয়েছে। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে যে, সামরিক খাতে বাজেট নাটকীয়ভাবে না বাড়ালে ফকল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের দীর্ঘদিনের নীতি বদলাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিরক্ষা কৌশল, ইরান যুদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দীর্ঘদিনের মিত্রের মধ্যে চলা তীব্র মতপার্থক্য এখন এমন এক মোড়ে এসে পৌঁছেছে, যা পশ্চিমা বিশ্বে বড় ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার রক্তক্ষয়ী বিরোধের ইতিহাস প্রায় দুশো বছরের পুরনো। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার ফকল্যান্ড আগ্রাসনের পর মার্গারেট থ্যাচারের নির্দেশে ব্রিটিশ নৌবাহিনী রক্তক্ষয়ী লড়াই চালিয়ে দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছিল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের পাশে দাঁড়ালেও ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের ওপর কখনোই সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়নি, কেবল ব্রিটিশদের ডি ফ্যাক্টো প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। পেন্টাগনের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ন্যাটো জোটের নতুন সামরিক ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে ব্রিটেনকে নিয়ে কঠোর অবস্থানে যেতে পারে ওয়াশিংটন। এমনকি লন্ডনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের দাবির ক্ষেত্রে ব্রিটেনের বিরোধিতাও করতে পারে আমেরিকা।
পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মিত্র দেশগুলোর ওপর প্রতিরক্ষার বোঝা চাপানোর জন্য ওয়াশিংটন এখন কোনো কিছুই অসম্ভব বলে মনে করছে না এবং আলোচনাগুলো অত্যন্ত কড়া ভাষায় চলছে।
ন্যাটো জোটের নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোকে নিরাপত্তার পেছনে তাদের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা যদিও ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ শতাংশে পৌঁছানোর কথা ভাবছেন, তবুও গত জুনে প্রকাশিত দেশটির নতুন প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত মূল প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির মাত্র ২.৭ শতাংশে আটকে থাকছে। এর ওপর আবার বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে থাকা ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে বাজেটের জন্য অতিরিক্ত চার দশমিক সাত বিলিয়ন বা ছয় দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের এই কড়া বার্তা ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
গত এপ্রিলে রয়টার্সের মাধ্যমে প্রথম এই ফকল্যান্ড ইস্যুটি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে একটি ফাঁস হওয়া পেন্টাগনের ইমেইলের সূত্রে জানা গিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় মিত্রদের পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার শাস্তি হিসেবে তাদের ‘সাম্রাজ্যবাদী উপনিবেশগুলোর’ ওপর কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এই সম্ভাবনায় চরম উল্লাস প্রকাশ করে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাঁরা আগে কখনো এমন অভূতপূর্ব অগ্রগতির মুখ দেখেননি।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে ভারত মহাসাগরের কৌশলগত চাগোস দ্বীপপুঞ্জ এবং ইরান ইস্যুতে। ২০২৫ সালে ব্রিটেন মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরে রাজি হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে একটি ‘বড় ভুল’ বলে অভিহিত করার পর গত এপ্রিলে সেই পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয় লন্ডন। শুধু তাই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি প্রথমাবস্থায় আইনি জটিলতার অজুহাতে দেয়নি যুক্তরাজ্য, যা ওয়াশিংটনের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
সূত্র: আরটি