✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৯, | ১৮:২৯:২৮ |ইরানের শক্তিশালী হয়ে ওঠার বাস্তবতা ইউরোপকে মেনে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানিতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মাজিদ নিলি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চায় তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরনাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাজিদ নিলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ দেশটির দৃঢ় অবস্থান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সংকট মোকাবিলায় জনগণের স্থিতিস্থাপকতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
তিনি বলেন, “বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চাপ সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপ ও যোগাযোগের পথ এখনও অনুসরণ করা হচ্ছে।”
সংলাপের দরজা খোলা রাখছে তেহরান
ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে একদিকে যেমন সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার বার্তাও রয়েছে।
নিলির মতে, রাজনৈতিক চাপ কিংবা সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের কারণে ইরান আলোচনার পথ থেকে সরে যেতে চায় না। বরং পারস্পরিক সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সংলাপ এগিয়ে নেওয়াই তেহরানের অবস্থান।
তবে এই সংলাপের ক্ষেত্রে ইরানের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক অবস্থান এবং নিরাপত্তাগত সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিতে হবে বলেও তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ইরান নিয়ে ইউরোপের অবস্থানের সমালোচনা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার সময় ইউরোপের প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেছেন নিলি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের আঞ্চলিক অবস্থান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা রাজনৈতিক মহল ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
তার মতে, ইরানের সমালোচকেরাও এখন উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো থেকে দেশটিকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
নিলি বলেন, ইরানকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার যেকোনও প্রচেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান, সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনও বড় রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাগত সমীকরণে ইরানকে বিবেচনায় নিতেই হবে।
‘শক্তিশালী ইরান’ মেনে নেওয়ার বার্তা
ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—ইরানকে দুর্বল বা বিচ্ছিন্ন একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখার নীতি থেকে সরে এসে দেশটির বর্তমান বাস্তবতা মেনে নিতে হবে ইউরোপকে।
তেহরানের দৃষ্টিতে, সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও প্রতিরোধের ক্ষমতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেও ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান ধরে রেখেছে।
নিলির মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে।
আঞ্চলিক সমীকরণে ইরানকে বাদ দেওয়া কঠিন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব রয়েছে। দেশটির সঙ্গে ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যু সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত।
ফলে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে আঞ্চলিক সমীকরণে তেহরানের ভূমিকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
নিলির মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার দাবি, দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সংকট মোকাবিলার সামর্থ্য এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সামরিক সক্ষমতার ওপর জোর দিলেও তেহরান কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ বন্ধ করছে না। পারস্পরিক সম্মান ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার নীতিই ইরানের অবস্থান।
ইউরোপের সামনে কঠিন কূটনৈতিক সমীকরণ
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলো একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নীতির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করতে চায়।
এ অবস্থায় তেহরানের সাম্প্রতিক অবস্থান ইউরোপের জন্য নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইরান যেমন তার প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সক্ষমতার ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনি আলোচনার দরজাও খোলা রাখার কথা বলছে।
ফলে ইরানের রাষ্ট্রদূতের বার্তাটি মূলত দ্বিমুখী—তেহরানকে চাপ দিয়ে দুর্বল করার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করা হবে, তবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপের সুযোগও থাকবে।
নিলির বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপকে এখন ইরানকে শুধু নিষেধাজ্ঞা ও চাপের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বাস্তবতার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা