নেপাল থেকে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিলেন অপু বিশ্বাস

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৯, | ১৪:৫১:৩০ |

নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এখনো ১ হাজার ৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া নেপাল-তিব্বত সীমান্তে অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন দুর্গত এলাকা থেকে আহত অবস্থায় ১ হাজার ৫৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও পুরো শুটিং ইউনিট। ২৬ আগস্ট যে পাহাড়ি সড়ক দিয়ে তাঁদের কাঠমান্ডু যাওয়ার কথা ছিল, ঠিক সেই পথেই ঘটে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে ভাগ্যক্রমে তাদের যাত্রার তারিখ ছিল ২৭ আগস্ট। এক দিনের ব্যবধানেই বড় বিপদ এড়াতে সক্ষম হয় পুরো ইউনিট।

পোখারায় তখন ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং চলছিল। দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে ক্যামেরা চালিয়ে যাওয়াকে অমানবিক মনে হয়েছে অপু বিশ্বাসের কাছে। তাই পুরো দলের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে নিরাপদে দেশে ফেরে ‘শিকার’ সিনেমার পুরো ইউনিট।

শুক্রবার রাতে ঢাকায় ফিরেছেন অপু। দেশে ফিরে নেপালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্বস্তির পাশাপাশি সেখানকার মানুষের জন্য কষ্টের কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি তাঁকে নাড়া দিয়েছে।

নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অপু বিশ্বাস

নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অপু বিশ্বাস

শুক্রবার রাতে অপু বলেন, ‘নেপালে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে কাঠমান্ডু থেকে দুই থেকে তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায়। তবে কাকতালীয়ভাবে আমাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ তারিখে সেই একই পথ দিয়ে যাওয়ার। যাত্রার তারিখ এক দিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় “শিকার” সিনেমার শুটিং ইউনিট।’

ঘটনাটি মনে পড়লেও এখনো শিউরে উঠছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি আল্লাহর অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ বাস নিয়ে আমাদের মুভ করার কথা ছিল।’

নেপালের দুর্যোগে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক আটকা পড়েছেন বলেও জানতে পেরেছেন অপু। তাদের অনেকের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে ভাবাচ্ছে। অপু বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, বাংলাদেশসহ ২৭ দেশের পর্যটক সেখানে ছিলেন। এটা দুঃখের। তাঁরা হয়তো আমাদের আপনজন নন, কিন্তু আপন ছিলেন। জানি না, যাঁদের এখনো কোনো খোঁজ মিলছে না, সেই পরিবারগুলোর অবস্থা কী।’

অপু বিশ্বাস। ছবি: ফেসবকু

অপু বিশ্বাস। ছবি: ফেসবকু

দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটিতে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন যাতায়াত বন্ধ থাকতে পারে বলেও জানান অপু। ফলে শুটিং শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছে পুরো ইউনিটকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিচালক ও প্রযোজকেরা নতুন করে শুটিংয়ের সময়সূচি নির্ধারণ করবেন।

তবে শুধু নিরাপত্তার কারণেই শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান অপু। তাঁর কাছে এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে শুটিং চালিয়ে যাওয়াটিও অমানবিক মনে হয়েছে।

অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।’

নেপালে দেখা সেই ভয়াবহ দৃশ্য ও মানুষের আহাজারি এখনো তাঁর মনে গেঁথে আছে জানিয়ে অপু বলেন, ‘নেপালে মানুষের যে আহাজারি দেখেছি, তা বলে বোঝাতে পারব না।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..