✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৭, | ১১:৪৭:০৫ |ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গতকাল রবিবার চালানো এসব হামলায় দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ, একটি পাথর কোয়ারিতে ধ্বংসযজ্ঞ এবং অসংখ্য বাড়িঘর ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদ ও সুরক্ষায় ইসরায়েলি দখলদাররা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, এই হামলাগুলো নাবলুস, তুলকারেম, রামাল্লা, হেব্রন, সালফিত, কালকিলিয়া, জেরিকো ও জেরুজালেম গভর্নরেটের সম্প্রদায় লক্ষ্য করে চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষার মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি দখলদারেরা আল-রহমা মসজিদের একটি বড় অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে মসজিদের দেওয়ালে হিব্রু ভাষায় বর্ণবাদী স্লোগান লিখে দেয়।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল-আজিম ওয়াদি বলেন, রাত আড়াইটার দিকে তিনি একটি ফোনকলে তিনি জানতে পারেন গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের মসজিদটিতে ইসরায়েলিরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ওয়াদি জানান, তিনি তখনই আরও কয়েকজন বাসিন্দাকে সঙ্গে নিয়ে আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মসজিদটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উদ্বোধন করার কথা ছিল।
একই দিনে তুলকারেমের দক্ষিণে কুর গ্রামে আরও একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিশোধের আহ্বান জানিয়ে স্লোগান লিখে রেখে গেছে।
ফিলিস্তিনি হাইয়ার ফাতওয়া কাউন্সিল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অভিযান।
এদিকে, রামাল্লার কাছে আইন সামিয়া এলাকার একটি পাথর কোয়ারিতে হামলা চালিয়ে ১০টি ভারী যন্ত্রপাতিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোয়ারির মালিকের দাবি, এতে প্রায় ২০ লাখ শেকেল ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় তিন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।
এছাড়া বেইতিলু, বেইত ফুরিক, কালকিলিয়া, জেরিকো, সালফিত ও জেরুজালেমের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, যানবাহন ও একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি দখলদারদের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত ধারাবাহিক হামলার অংশ বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলে, ‘মসজিদে হামলা ও বর্ণবাদী স্লোগান লেখা দখলদারদের আসল চেহারা দেখিয়ে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তারা রাজনৈতিক সংঘাতকে ধর্মীয় রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উসকানি, সুরক্ষা ও শাস্তিহীনতার নীতির কারণেই তারা বারবার এমন হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান
বিবৃতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিদিন হামলা চালানো দখলদার গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়।
ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পশ্চিম তীরে অন্তত ১১ হাজার ৭৪টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি তথ্য কেন্দ্রের (পিআইসি) হিসাব অনুযায়ী, কেবল জুন মাসেই ৬ হাজার ৮৫৬টি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী পশ্চিম তীরে বসবাস করছেন। তারা ১৪১টি অননুমোদিত বসতি এবং ২২৪টি আউটপোস্টে বিভক্ত। এর মধ্যে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার বসতি স্থাপনকারী পূর্ব জেরুজালেম এলাকায় থাকে। এসব এলাকা থেকে নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, জমি ও সম্পদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই