ভাইরাস রুখতে ভ্যাকসিন ফর্মুলা তৈরি করবে এআই

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২০, | ১৯:৫০:৩৯ |
চিকিৎসাক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অবদান রাখতে চলছে এআই। একদল গবেষক দাবি করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন বিশেষ ভ্যাকসিন তৈরিতে সহায়ক হবে, যা ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিহত করতে সক্রিয় কাজ করবে। এই টিকা ভাইরাসের পুরো একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করবে।

ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের গবেষকরা বায়োটেকনোলজি সংস্থা ডায়োসিনভ্যাক্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন। এটি তৈরির কাজে ব্যবহার হয়েছে এআই এবং মেশিন লার্নিং সিস্টেম। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বর্তমানে যেসব ভাইরাস মহামারির কারণ হতে পারে, সেসবের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ প্রতিরোধ তৈরি করা। এরই মধ্যে এআই ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল হয়েছে। তাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দৃশ্যমান হয়েছে। অন্যদিকে, প্রমাণ হয়েছে এই ভ্যাকসিন এরই মধ্যে লড়তে সক্ষম হয়েছে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে।

গবেষকরা এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করে আরেকটি যুদ্ধ জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। এটি হলো মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রতিষেধকের খোঁজ না করে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া।

ভাইরাস প্রতিনিয়ত রূপ পরিবর্তন করে। করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরে দেখা যায়, এই ভাইরাসের একাধিক রূপ ফিরে এসেছে। এসব ভ্যারিয়েন্ট প্রতিহত করতে একাধিক টিকা তৈরির প্রয়োজন সামনে আসে। এই টিকা উন্মোচিত হলে জটিল ভাইরাস সমস্যা অনেকাংশে মিটে যাবে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের ল্যাব অব ভাইরাল জুনোটিকসের অধ্যাপক জনাথন হিনি বলেন, করোনা আমাদের শিখিয়েছে, আমরা কত দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারি। নতুন এই প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হলো এমন আগাম ভ্যাকসিন তৈরি করা, যা ভাইরাসের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরে ভিত্তি করে তাদের পুরো গোষ্ঠীকেই একবারে নির্মূল করবে।

সুপারঅ্যান্টিজেন
এই ভ্যাকসিন তৈরির নেপথ্যে এআই প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। সারাবিশ্বে গবেষকরা কয়েকটি কর্মসূচিতে সংগ্রহ করা করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স একত্র করেছিলেন। এআই এসব জেনেটিক ব্লুপ্রিন্ট পরীক্ষা করে দেখেছে, করোনাভাইরাস পরিবারের কোন অংশ সময়ের সঙ্গে প্রায় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। এই পথে চলেই গবেষকরা সুপারঅ্যান্টিজেন তৈরি করতে পেরেছেন। গবেষক দলের অধ্যাপক হিনি ব্যাখ্যায় বলেছেন, এসব ভিন্ন সিকোয়েন্সের মধ্যে আমরা খুঁজেছি ঠিক কোথায় মিল রয়েছে। কোনটা পরিবর্তন হচ্ছে না আর কোনটা ওই ভাইরাস গোত্রের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি?

আমরা ঠিকঠিক সেটাকেই টার্গেট করছি।
গবেষকরা বলছেন, এই কৌশলের জন্যই অনেক ভাইরাসের মধ্যে বড়সড় জিনগত পরিবর্তন হলেও ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বিফলে যাবে না। ঠিক এভাবেই রূপন্তর হচ্ছে ইউনিভার্সাল সারবেকো ভ্যাকসিন।

সারবেকো ভাইরাস হলো করোনাভাইরাসের বিশেষ এক উপদল। এর মধ্যেই রয়েছে সার্স-কোভ-টু। ভ্যাকসিনটি এই গোত্রের ভাইরাসের পুরো পরিবারের বৈশিষ্ট্যকে একত্র করে তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা দৃঢ়চিত্রে বলছেন, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এটি কোনো নির্দিষ্ট ভাইরাসের বদলের সঙ্গে জড়িত যে কোনো ভাইরাস গোষ্ঠীকে ধ্বংস করতে পারে। তাই বলে দেওয়াই যায়– এই ভ্যাকসিন উন্মোচিত হলে অবশ্যই প্রতিহত করা যাবে মহামারির মতো শঙ্কাকে। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..