✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭০০ কোটি ডলার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২১, | ০০:৩১:৩৬ |
ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ আর আনন্দের উৎস নয়, এর প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। ২০২৬ বিশ্বকাপে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে, ইয়ামালের মতো তারকাদের খেলা দেখতে ব্যস্ত থাকায় কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের কারণে ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

মানবসম্পদ ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইউকেজি (UKG)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার জন্য কর্মীদের অনুপস্থিতি, অফিসে দেরিতে আসা এবং কাজে মনোযোগ কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। দেশটিতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার সমান।

‘নকআউট টিউসডে’তে কমেছে অফিস উপস্থিতি
ইউকেজির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মী ছুটি নিয়েছেন, কেউ অফিসে দেরিতে পৌঁছেছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরেছেন।

কর্মক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম এনভয় (Envoy)-এর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র দল ৬ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ৭ জুলাই মঙ্গলবার দেশটির অফিসগুলোতে কর্মীদের উপস্থিতি হঠাৎ ২৬ শতাংশ কমে যায়। এই অনুপস্থিতির হার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন সুপার বোল ফাইনালের পরদিনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।

শুধু অফিসে কর্মীদের উপস্থিতিই কমেনি, বরং ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ে। ওই দিন ক্লায়েন্ট মিটিং, চাকরির সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক বৈঠকের সংখ্যা প্রায় ৩২ শতাংশ কমে যায়। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে এনভয় নাম দেয় ‘নকআউট টিউসডে’ (Knockout Tuesday)।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দলের ম্যাচের দিনগুলোতেই কর্মীদের কাজে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। তবে দলটি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর ধীরে ধীরে অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করে।

বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকল্প ব্যবস্থা
বিশ্বকাপের সময় কর্মীদের কাজের ক্ষতি কমাতে এবং আয়োজক শহরগুলোতে অতিরিক্ত যানজট এড়াতে বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠান আগাম ব্যবস্থা নেয়। 'জেপি মরগান চেস, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এসঅ্যান্ডপি'-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাচের দিন কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেয়।

এদিকে, ফাইনালের পরদিন অফিসে উপস্থিতির হার কেমন হতে পারে, তার একটি পূর্বাভাসও দিয়েছিল এনভয়। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্র না থাকায় সোমবার অফিসে অনুপস্থিতির হার খুব বেশি বাড়বে না বলে ধারণা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাধারণ সোমবারের তুলনায় উপস্থিতি সর্বোচ্চ ১.৮৭ শতাংশ কমতে পারে, যা সুপার বোলের পরদিনের কাছাকাছি।

বড় ক্রীড়া ইভেন্টে কর্মক্ষেত্রে প্রভাব নতুন নয়
ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বড় কোনো ক্রীড়া বা বিনোদনমূলক আয়োজনের সময় কর্মীদের কাজে প্রভাব পড়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে অলিম্পিক গেমস কিংবা ২০২৩ সালে ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি ও উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল।

তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা কমেছে, তা সাম্প্রতিক সময়ের বড় বৈশ্বিক ইভেন্টগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..