অ্যাপ সুরক্ষায় ৬ ছক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২০, | ১৯:৪৯:২৮ |
বিশ্বে দিন-রাত সারাক্ষণ ৩৩০ কোটির বেশি গ্রাহক সব ধরনের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে একটি অ্যাপে অভ্যস্ত এখন। সাধারণত চ্যাট থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজ বা ব্যবসায়িক যোগাযোগ থেকে ভিডিও কলে সভা– সব ক্ষেত্রেই এই অ্যাপের যেন বিকল্প নেই। কিছুদিন আগে গুগল সার্চ সার্ভিসেস হিস্ট্রি নামে নতুন সেটিং সক্রিয় করার কথা বলেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে ঠিক করা যাবে, এআই পরিষেবাকে মানোন্নত করার জন্য গুগল বিশেষ কোন তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। লিখেছেন সাব্বিন হাসান

অ্যাপের নির্মাতা সংস্থা মেটা বহুমাত্রিক এআই প্রযুক্তির ফিচার সামনে আনছে। কিছুদিন হলো অ্যাপে ইউজারনেম ফিচার আনার কথা জানানো হয়। কিন্তু ইউজারনেম ফিচার ছাড়াও এতে অনেক প্রাইভেসি ফিচার ও হিডেন ফিচার রয়েছে। অনেকেই এসব হয়তো জানেন না।

ইউজারনেম ফিচার
অ্যাপ সংস্থা মেটা এমন ইউজারনেম ফিচার এনেছে, যার মাধ্যমে মোবাইল নম্বর গোপনে রেখেই অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। ফিচারটি এখনও সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়নি।

চ্যাট লক
ব্যবহৃত ফোন যদি পরিবারের অন্য সদস্য বা বন্ধুদের হাতে যায়, তাহলে ব্যক্তিগত চ্যাট যেন কেউ পড়তে না পারে, তার জন্য রয়েছে চ্যাট লক ফিচার। বিশেষ যে চ্যাটকে সিক্রেট রাখতে চান, এটি করার জন্য প্রথমে লকড চ্যাটস ফোল্ডারে যেতে হবে। সেখানে গেলেই হিডেন লকড চ্যাটস অপশনে ক্লিক করলে আসবে বিশেষ কোড। এটি সেট করলেই নির্দিষ্ট চ্যাটটি একেবারে লক হয়ে যাবে। এরপর সেই নির্দিষ্ট কোড সার্চবারে লিখলেই সিক্রেট চ্যাটটি দৃশ্যমান হবে।

ভয়েস মেসেজ ট্রান্সক্রিপশন
অনেক সময় অফিস, মিটিং বা জনবহুল পরিবেশে ভয়েস মেসেজ শোনার সুযোগ থাকে না। এর সমাধানে রয়েছে ভয়েস মেসেজ ট্রান্সক্রিপশন সুবিধা। ভয়েস মেসেজকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মেসেজে রূপান্তর করে। সুবিধাটি পেতে প্রথমে সেটিংস অপশনে গিয়ে তারপর চ্যাটস ও ভয়েস মেসেজ ট্রান্সক্রিপটস অপশনে যেতে হবে। সেখান থেকেই এই ফিচার সক্রিয় করা যাবে।

চ্যাট লিস্ট
প্রতিদিনের অসংখ্য মেসেজের চাপে হারিয়ে যায় জরুরি চ্যাট। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে রয়েছে চ্যাট লিস্ট ফিচার। কোনো চ্যাটে লং প্রেস করে অ্যাড-টু-লিস্ট নির্বাচন করলে পরিবার, অফিস, বন্ধু– নির্ধারিত চ্যাট ওপরে রাখার সুবিধা রয়েছে। এর জন্য তালিকা তৈরি করে নেওয়া যায়। ফলে প্রয়োজনের সময় জরুরি চ্যাট খুঁজে পেতে ঝামেলা পোহাতে হয় না।

মেটা এআই
আলাপনের সময়ে এখন আর আলাদা করে মেটা এআই খুলতে হয় না। অ্যাপে চ্যাটের সময়েই মেটা এআইর সহায়তায় তথ্য খোঁজা, লেখালেখি, অনুবাদ, ইমেইল বা ক্যাপশন তৈরি, নতুন আইডিয়া বের করা বা অনেক প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যাবে নিমেষে।

নম্বর সেভ না করেই মেসেজ
অনেক সময় একবারের জন্য কাউকে মেসেজ পাঠাতে হলে নম্বর ফোনে সেভ করার প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে ‘wa.me/91XXXXXXXXXX’ বা প্রয়োজনীয় মোবাইল নম্বরটি লিখলেই সরাসরি সেই ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খুলে যাবে।

ব্যাকআপ এন্ড-টু-এন্ড
হোয়াটসঅ্যাপের সব চ্যাট ডিফল্টভাবেই এন্ড-টু-এন্ড এন্ডক্রিপটেড হলেও গুগল ড্রাইভ বা আই-ক্লাউডে সংরক্ষিত করা ব্যাকআপ একইভাবে সুরক্ষিত নাও থাকতে পারে। তাই ক্লাউড ব্যাকআপে এনক্রিপশন চালু করা আবশ্যক। 

এ জন্য সেটিংস অপশনে গিয়ে প্রথমে চ্যাটস, তারপর চ্যাট ব্যাকআপ নিয়ে সেটিকে এন্ড-টু-এন্ড এন্ডক্রিপটেড ব্যাকআপ অপশনে গিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। তাহলেই সঠিক ব্যাকআপ তৈরি হবে। এসব ফিচার ব্যবহারের ফলে প্রতিক্ষণের চ্যাট করা, ভিডিও শেয়ারিং, ভিডিও কল– এসব কাজ দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ হবে।

যতই উন্নত হচ্ছে এআই, ততই বাড়ছে ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা সংগ্রহের পরিধি। এর সঙ্গে বদলে যেতে যাচ্ছে ডেটা সার্চ ও ব্যবহারের ধরন। এর আগে এআই মূলত গ্রাহকের সার্চ হিস্ট্রি বা কয়েকটি নির্দিষ্ট তথ্যের ওপর নির্ভর করেই সার্চের ফল দিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন অনেকটাই বদলেছে। গুগল, মেটা ছাড়াও কয়েকটি সংস্থা এআই প্রযুক্তিকে নিখুঁতভাবে গ্রাহকের দেওয়া ডেটাকে বিশ্লেষণ করছে। এর ফলে একদিকে যেমন মানোন্নত হয়েছে ডেটা সার্চের ধরন, তেমনি এর সঙ্গে ডেটা সিক্রেসি বা গোপনীয়তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উৎকণ্ঠা। কিন্তু বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্মেই গ্রাহকের জন্য কিছু না কিছু প্রাইভেসি কন্ট্রোল বা ওপিটি-আউটের ব্যবস্থা রয়েছে।

কীভাবে কাজ করছে
বর্তমানে এআই মডেলকে স্মার্ট করে তুলতে কয়েকটি টেক সংস্থা অনেকের সার্চ হিস্ট্রিকে ব্যবহার করছে। সার্চ হিস্ট্রির সঙ্গে এআই চ্যাট বা প্রম্পট, আপলোড করা ছবি, অডিও রেকর্ডিং, ভিডিও, ডকুমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কিছু তথ্য সবকিছু ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এআই সবার পছন্দ, অভ্যাস ও প্রয়োজনকে বেশ ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে।

কী ধরনের পরিবর্তন 
কিছুদিন আগে গুগল সার্চ সার্ভিসেস হিস্ট্রি নামে নতুন সেটিং সক্রিয় করার কথা বলেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে যে কেউ ঠিক করতে পারবেন, এআই পরিষেবাকে মানোন্নত করার জন্য গুগল তাদের কোন তথ্য ব্যবহার করতে পারবে।

কী কী ব্যবহৃত হবে
গুগল পরিষেবার সার্চ, ম্যাপস, ট্রান্সলেটর, লেন্স ও নিউজ– এসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে হবে। চাইলে সেটিংস অপশনে গিয়ে এসব ডেটা ব্যবহারের জন্য পারমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এতে অ্যাপ নিয়ন্ত্রিত হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..