✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৮, | ১৮:৩৪:৪৬ |বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যে শিরোপার লড়াইয়ের অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উন্মাদনা অন্য যেকোনো সময়ে চেয়ে বেশি। এই ম্যাচে ফুটবলের বড় বড় সব তারকাদের একসঙ্গে দেখা যাবে।
বিশেষ করে সবার নজর থাকবে লিওনেল মেসি এবং লামিন ইয়ামালের ওপর। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও আরেকজন তারকা নীরবে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি হলেন কেইন। ইয়ামালের তিন বছর বয়সী ছোট ভাই। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তার মিষ্টি উপস্থিতি বিশ্বকাপের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের সেমিফাইনাল জয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে বড় ভাইয়ের সঙ্গে এই খুদের আনন্দঘন মুহূর্তের নানা ছবি ও ভিডিও। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে দৌড়াদৌড়ি করা, ইয়ামালের কোলে চড়ে উদযাপন করা কিংবা গ্যালারি থেকে দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়া, সব মিলিয়ে কেইন অপ্রত্যাশিতভাবেই ভক্তদের নয়নের মণি হয়ে উঠেছে।
তার প্রাণবন্ত উদযাপন আর মনকাড়া হাসি তাকে ইন্টারনেটে ভাইরাল করে তুলেছে; অনেক সমর্থকই তাকে টুর্নামেন্টের ‘সবচেয়ে মিষ্টি ম্যাসকট’ হিসেবে অভিহিত করছেন। স্পেনের ম্যাচ চলাকালীন ক্যামেরার লেন্স বারবার তার দিকে ঘুরেছে এবং তার প্রতিটি উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ ভিউ কুড়িয়েছে।
কেইন হলো ইয়ামালের ছোট সৎ ভাই। ইয়ামালের মা শিলা এবানা পুনরায় বিয়ে করার পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কেইনের জন্ম হয়। বয়সের ১৫ বছরের ব্যবধান সত্ত্বেও দুই ভাইয়ের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে; ইয়ামাল নিজেও বহুবার ভালোবাসার সঙ্গে এই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।
বার্সেলোনার এই উইঙ্গার কেইনের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা কখনোই গোপন করেননি। একবার তিনি বলেছিলেন, আমার ছোট ভাই আমার কাছে সবকিছু। আমি তাকে ভীষণ ভালোবাসি। মনে হয় সে যেন আমার নিজেরই সন্তান।
পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তাদের এই গভীর বন্ধন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। স্পেনের প্রতিটি জয়ের পর ইয়ামালকে কেইনকে জড়িয়ে ধরতে, তাকে কোলে নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করতে এবং হাজার হাজার দর্শকের সামনে তার সঙ্গে উল্লাস করতে দেখা গেছে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টের তীব্র চাপ ও উত্তেজনার মাঝে তাদের এই আবেগঘন মুহূর্তগুলো এক মনোরম ও স্বস্তিদায়ক আবহ তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগে থেকেই এই দুজনকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাদের একসঙ্গে নাচ, বিশেষ ভঙ্গিতে হাত মেলানো, খেলনা গাড়ি চালানো এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ভিডিওগুলো নিয়মিত লাখ লাখ ভিউ পায়। তাদের মধ্যকার প্রাণবন্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে এবং ফুটবলের বাইরের ইয়ামালের জীবনের এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচের জন্য স্পেন যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সবার নজর থাকবে ইয়ামালের ওপর। তিনি দেশকে বিশ্বকাপ ট্রফি জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাইছেন। তবে জয়ের পর উদযাপনের সময় যদি আবারও সেই পরিচিত মুখটিই সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।