সর্বশেষ :
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে জিতবে যারা ‘ইংল্যান্ডের খেলায় প্রিমিয়ার লিগের মতো তীব্রতা নেই’ প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়নে রাজনীতিকরণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী টিকি-টাকা থেকে গতিময় ফুটবল, ১৬ বছরে বদলে যাওয়া স্পেনের গল্প বিশ্বকাপই ঠিক করবে ব্যালন ডি’অরের মালিক কে হবে : ওয়েন মেসিদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গোপন অস্ত্র হতে পারেন মাইনু বয়স ৯১, টানা ১৮টি বিশ্বকাপের খবর লিখছেন এই আর্জেন্টাইন সাংবাদিক হালান্ডকে থামিয়েছি, এবার মেসিকেও থামাব: টুখেল

টিকি-টাকা থেকে গতিময় ফুটবল, ১৬ বছরে বদলে যাওয়া স্পেনের গল্প

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৫, | ১৮:৫১:১২ |

১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছিল স্পেন। সেই দলের মূল শক্তি ছিল বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা স্পেনও একইভাবে কারিগরি দক্ষতায় সমৃদ্ধ, তবে খেলার ধরনে এসেছে বড় পরিবর্তন। এখনকার স্পেন অনেক বেশি গতিময়, আক্রমণাত্মক এবং সরাসরি ফুটবলে বিশ্বাসী।

২০১০ সালে ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে স্পেনের পরিচয় ছিল 'টিকি-টাকা'। ছোট ছোট পাসে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা ছিল তাদের প্রধান কৌশল। জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুসকেটস ও জাবি আলোনসো মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাচের গতি ঠিক করতেন।

বর্তমান স্পেনও বলের দখল রাখতে চায়, তবে সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে ওঠে। কয়েকটি পাসেই রক্ষণ থেকে আক্রমণে চলে যায় দলটি। দুই প্রান্তের গতি ও আক্রমণভাগের দ্রুত চলাচল এখন তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

২০১০ সালের স্পেন ছিল একঝাঁক প্রতিষ্ঠিত তারকার সমন্বয়ে গড়া। জাভি, ইনিয়েস্তা, বুসকেটস, দাভিদ ভিয়া, কার্লেস পুয়োল, জেরার পিকে ও ইকার কাসিয়াসের মতো তারকারা একসঙ্গে খেলতেন। ২০২৬ সালের স্পেনেও প্রতিভার অভাব নেই। তবে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়ে নিয়েছেন মাত্র ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। একের বিপরীতে একজনকে কাটিয়ে ওঠা, গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং কঠিন মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাকে দলের সবচেয়ে বড় ভরসায় পরিণত করেছে।

আক্রমণের ধরন বদলালেও রক্ষণে স্পেনের শক্তি এখনো অটুট। ২০১০ বিশ্বকাপে মাত্র দুটি গোল হজম করেছিল তারা। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই জিতেছিল ১-০ ব্যবধানে।
বর্তমান দলও সংগঠিত রক্ষণ, সমন্বিত চাপ সৃষ্টি এবং পেছন থেকে ধৈর্যের সঙ্গে খেলা গড়ে তোলার কৌশল ধরে রেখেছে। সময়ের সঙ্গে কৌশল বদলালেও রক্ষণে শৃঙ্খলা এখনো স্পেনের অন্যতম পরিচয়।

২০১০ সালের দলে বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই তখন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে ছিলেন। ক্লাব ও জাতীয় দলে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলায় তাদের বোঝাপড়াও ছিল অসাধারণ। অন্যদিকে ২০২৬ সালের স্পেন অনেক বেশি তরুণ। ইয়ামালসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সামনে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পড়ে আছে। অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সঙ্গে তরুণদের এই মিশ্রণ স্পেনকে শুধু বর্তমান বিশ্বকাপ নয়, আগামী এক দশকেও বড় আসরগুলোর অন্যতম দাবিদার করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০১০ সালের স্পেন ছিল ধৈর্য, বলের দখল ও নিখুঁত পাসিংয়ের প্রতীক। আর ২০২৬ সালের স্পেন সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেও যোগ করেছে গতি, সরাসরি আক্রমণ এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের নতুন মাত্রা। দুই যুগের দুই দল ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই বিশ্বকাপের ট্রফি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..