✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৫, | ১৮:৪৯:৪৭ |চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামতে পারেননি ইংল্যান্ডের তরুণ মাঝমাঠের খেলোয়াড় কোবি মাইনু। কোচ টমাস টুখেল তাকে সুযোগ না দেওয়ায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা মাইকেল ওয়েন মনে করেন, বিশ্বকাপের শেষ দিকে হঠাৎ করেই দলের সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে উঠতে পারেন এই ২১ বছর বয়সী ফুটবলার।
ওয়েনের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে শেষ পর্যন্ত কে নায়ক হয়ে উঠবেন, তা আগে থেকে বলা যায় না। ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে শুরুতে উপেক্ষিত কোনো খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে দিয়েছেন।
তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের কথা। সেই আসরে ইংল্যান্ডের প্রধান ভরসা ছিলেন জিমি গ্রিভস। কিন্তু চোটের কারণে তিনি ছিটকে গেলে সুযোগ পান জিওফ হার্স্ট। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফাইনালে তিন গোল করে ইংল্যান্ডকে প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপ জেতান তিনি।
ওয়েন বলেন, ‘কে ভেবেছিল জিওফ হার্স্ট খেলবেন? সবাই তখন জিমি গ্রিভসের কথাই বলত। কিন্তু ফুটবলে সব সময় অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে। হার্স্ট সুযোগ পেয়েছিলেন, আর ইতিহাস গড়ে ফেলেছিলেন। মাইনুর ক্ষেত্রেও এমন কিছু ঘটতে পারে। মাইনুর সেই সামর্থ্য আছে। সে এখনো সুযোগ পায়নি, কিন্তু বিশ্বকাপে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। অপ্রত্যাশিত নায়ক সব সময়ই জন্ম নেয়। মাইনুও তাদের একজন হতে পারে।’
চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ছয়টি ম্যাচের একটিতেও মাঠে নামতে পারেননি মাইনু। সবশেষ তিনি খেলেছিলেন বিশ্বকাপের আগে কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে।
এরপর থেকে টুখেল বদলি হিসেবে অন্য খেলোয়াড়দের ব্যবহার করেছেন। এমনকি কয়েকটি ম্যাচে স্বাভাবিক অবস্থানের বাইরে খেলোয়াড় নামিয়েছেন, তবুও সুযোগ মেলেনি মাইনুর। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক সমর্থক প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই তরুণকে একেবারেই উপেক্ষা করা হচ্ছে।
ওয়েন অবশ্য মনে করেন, টুর্নামেন্ট এখন আসল পরীক্ষার জায়গায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন,‘এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড যাদের হারিয়েছে, তাদের বিপক্ষে জেতাই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটাই হবে প্রকৃত পরীক্ষা। এই ম্যাচে দুই দলের জয়ের সম্ভাবনাই সমান। এখান থেকেই আসল চ্যালেঞ্জ শুরু। যদি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিততে চায়, তাহলে শুধু হ্যারি কেইন বা জুড বেলিংহ্যামের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নতুন কেউ সামনে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে হবে। বিশ্বকাপ জিততে গেলে অনেক নাটকীয় মুহূর্ত আসে। এমন অনেক নায়ক জন্ম নেয়, যাদের কথা আগে কেউ ভাবেও না। মাইনুও তেমন একজন হতে পারে।’
এদিকে ইংল্যান্ডের সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাধা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে লিওনেল মেসিদের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় টুখেলের দল। এখন দেখার বিষয়, টুখেল শেষ পর্যন্ত মাইনুকে সুযোগ দেন কি না। যদি সুযোগ আসে, তাহলে ৬০ বছর আগের জিওফ হার্স্টের মতো তিনিও কি ইংল্যান্ডের অপ্রত্যাশিত নায়ক হয়ে উঠতে পারেন সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠেই।