✕

সর্বশেষ :
জার্মানিতে বিপজ্জনক ছায়াযুদ্ধের শঙ্কা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশ-ইউএই যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে সুপেয় পানি প্রকল্পের প্রস্তাব দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী মেহেরপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত পাকিস্তান সিরিজে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দল ঘোষণা, অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক কুমিল্লায় সকালে হাঁটতে বেরিয়ে গাড়িচাপায় স্বামী ও স্ত্রী নিহত কাদের মির্জা ও তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অবিবাহিতদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয় যেসব কথা দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপত্তায় ১৬ নির্দেশনা

বয়স ৯১, টানা ১৮টি বিশ্বকাপের খবর লিখছেন এই আর্জেন্টাইন সাংবাদিক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৫, | ১৮:৪৯:০৫ |

বয়স ৯১ বছর, কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা আর পেশাদারত্বের কাছে বয়স যেন স্রেফ একটা সংখ্যা মাত্র। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ছেলেদের ফুটবলের কোনো বিশ্বকাপই মিস করেননি আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক এনরিকে মাকায়া মার্কেজ। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপ কাভার করার মাধ্যমে টানা ১৮টি বিশ্বকাপ সাংবাদিকতার এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়লেন এই প্রবীণ ব্রডকাস্টার। বর্তমানে ফুটবল বিশ্বে তিনি এতটাই সম্মানিত যে, খোদ আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও সংবাদ সম্মেলন শেষে তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য বিশেষভাবে সময় নেন।

সুদীর্ঘ সাত দশকের এই বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ফুটবলের রূপান্তরকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মাকায়া। ১৯৫৮ সালে যখন তিনি মাত্র ২৪ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করতে সুইডেন যান, তখন সেখানে খেলছিলেন ১৭ বছরের এক তরুণ বিস্ময়—যার নাম পেলে। সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় অর্থাৎ চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে ৬–১ গোলের হারের সাক্ষী ছিলেন তিনি। এরপর থেকে পেলে, দিয়েগো ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে লিওনেল মেসি—ফুটবল ইতিহাসের সব মহানায়কদের জাদুকরি পারফরম্যান্স নিজের চোখে দেখার এবং তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তার।

দীর্ঘ এই সময়ে ফুটবলের ধরন বদলেছে, সম্প্রচার মাধ্যম অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল হয়েছে, পরিসংখ্যান এখন তাৎক্ষণিকভাবে হাতের মুঠোয় আসে। তবে এত পরিবর্তনের মাঝেও মাকায়ার একটি অভ্যাস অপরিবর্তিত রয়েছে, আর তা হলো হুট করে কাউকে নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য না করা। ২০১৮ সালে যখন স্কালোনিকে আর্জেন্টিনার কোচ করা হয়, তখন অনেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জুয়া খেলার মতো সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। মাকায়াও তখন স্কালোনিকে চিনতেন না বলে খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না। তবে পরবর্তীতে স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা যখন একে একে কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমো এবং কাতার বিশ্বকাপ জিতল, তখন মাকায়ার সেই চিরন্তন বিশ্বাস আরও দৃঢ় হলো যে—কোনো মানুষকে গভীরভাবে না জেনে তার সম্পর্কে চটজলদি রায় দেওয়া অনুচিত।

আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি আসরেও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ধরে রাখার দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন মাকায়া। বর্তমান দলে তার প্রিয় খেলোয়াড় কে জানতে চাইলে স্বভাবসুলভ হাসিমুখে লিওনেল মেসির নাম নেন তিনি। তবে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কে—মেসি নাকি ম্যারাডোনা? এমন চিরন্তন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট নাম না নিয়ে বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ের খেলোয়াড়দের পরিমাপ করার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। ভিন্ন সময়, ভিন্ন প্রতিপক্ষ আর ভিন্ন কৌশলের কারণে প্রতিটি খেলোয়াড়ই নিজ নিজ জায়গায় অনন্য।

বিশ্বকাপের জয় যেমন তাকে আনন্দ দেয়, তেমনই পরাজয়ের স্মৃতিগুলোকেও তিনি ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করেন। প্রায় ৭০ বছর ধরে ফুটবল ইতিহাসের প্রতিটি সোনালি অধ্যায় ক্যামেরার ওপাশে থেকে লেন্সবন্দি করার পর, অবশেষে অবসরের কথা ভাবছেন এই কিংবদন্তি। ৯১ বছর বয়সে এসেও রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘কোনো একসময় তো আমাকে থামতেই হবে।’ তবে ফুটবলপ্রেমী আর সহকর্মীদের কাছে মাকায়ার এই বিদায়ের সুর কখনোই চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার নয়, বরং তা ফুটবল ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে অমর হয়ে থাকবে।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..