সর্বশেষ :
জাতীয় ঐক্যের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণীতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে জিতবে যারা ‘ইংল্যান্ডের খেলায় প্রিমিয়ার লিগের মতো তীব্রতা নেই’ প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার সঠিক তালিকা প্রণয়নে রাজনীতিকরণ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী টিকি-টাকা থেকে গতিময় ফুটবল, ১৬ বছরে বদলে যাওয়া স্পেনের গল্প বিশ্বকাপই ঠিক করবে ব্যালন ডি’অরের মালিক কে হবে : ওয়েন মেসিদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গোপন অস্ত্র হতে পারেন মাইনু বয়স ৯১, টানা ১৮টি বিশ্বকাপের খবর লিখছেন এই আর্জেন্টাইন সাংবাদিক হালান্ডকে থামিয়েছি, এবার মেসিকেও থামাব: টুখেল

এক যুগ ধরে পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসাসেবা, ঝুঁকিতে রোগী-চিকিৎসক

পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে চিকিৎসাসেবা।

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৫, | ১৪:৪৬:০২ |

প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু হাসপাতালের একটি ভবন এক যুগ আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এবং পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় এখনো সেখানেই ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে রড। যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও থেমে নেই চিকিৎসা কার্যক্রম। বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। একই ঝুঁকিতে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৯৬৩ সালে নির্মিত হাসপাতালের পুরোনো ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ে ভবনের ভেতরের রড পর্যন্ত দৃশ্যমান। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ভবনটি যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। স্থানসংকটের কারণে পৃথক পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড থাকলেও নারী-পুরুষকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমনা খাতুন বলেন, পরিত্যক্ত ভবনে চিকিৎসা নিতে খুব ভয় লাগে। দেয়ালে ফাটল, মাঝেমধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ে। কখন কী হয়, সেই আতঙ্কে আছি।

রোগী রাজিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে যদি ভবন ধসে দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় কে নেবে? জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসা নিচ্ছি। ডাক্তার-নার্সরাও একই ঝুঁকিতে কাজ করছেন।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক বলেন, পুরোনো ভবনটিতে আইসোলেশনসহ ৩১টি শয্যা রয়েছে। এটি পুরুষ ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সংক্রামক রোগী এলে আলাদা শয্যার ব্যবস্থা করা হয়। নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

গাংনী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শামীম রেজা জানান, ২০১৩ সালে এলজিইডি, পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) সমন্বয়ে গঠিত একটি পরিদর্শন দল ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার শীল বলেন, দেশের পুরোনো হাসপাতাল ভবনগুলো পর্যায়ক্রমে ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি গণপূর্ত বিভাগও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..