✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৩, | ১৪:৪২:১৫ |ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অস্ত্রভান্ডার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করার পর এ বিষয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ানের মতে, বর্তমান হারে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র কয়েক হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। সিএসআইএসের হিসাব বলছে, গত এপ্রিল পর্যন্ত দেশটি তাদের অন্তত অর্ধেক থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর, প্রায় অর্ধেক প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৩০ শতাংশ টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক মাইকেল ও'হ্যানলনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত কমেছে এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমানে পেন্টাগন প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ১৫টি টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালে নতুন কোনো থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।
সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা এলেন ম্যাককাসকার বলেন, অধিকাংশ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এদিকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশেষজ্ঞ জন ফেরারির মতে, যুদ্ধ শুরুর পরও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য কংগ্রেস অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়নি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।
এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে হোয়াইট হাউস। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতি বাড়াতে ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পদক্ষেপের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে মিলবে না। নতুন উৎপাদন লাইন চালু করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানে একটি প্যাট্রিয়ট কারখানা নির্মাণে তিন বছর সময় লেগেছে। অন্যদিকে জার্মানি ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শুরু করলেও এখনো উৎপাদন শুরু করতে পারেনি।
যদিও পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল দাবি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এখনো যুক্তরাষ্ট্রেরই এবং প্রয়োজন হলে যে কোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সক্ষমতা দেশটির হাতে রয়েছে।
অন্যদিকে মাইকেল ও'হ্যানলনের মূল্যায়ন, বর্তমানে চীন বা উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট সীমার পর সেই সক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। সেই সীমা কোথায়, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ বিষয়টি অনেকাংশেই সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল।