সর্বশেষ :
বন্যা পরিস্থিতি : দূষিত হতে পারে রিজার্ভারের পানি, বিশেষ পরামর্শ চট্টগ্রাম ওয়াসার ভয়াবহ রূপে খোয়াই নদী, বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বন্যা চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বন্যার পানি খানিকটা কমলেও বিপাকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিপৎসীমার ওপরে পাঁচ নদীর পানি, সমুদ্রও উত্তাল ব্রাজিলের ফুটবল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, অভিযোগ পেলের মেয়ের টুখেলকে ঘুমোতে দিচ্ছে না আর্লিং হালান্ডের বিধ্বংসী পরিসংখ্যান? বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে লামিন ইয়ামালের বান্ধবীর অদ্ভুত আবদার যুক্তরাষ্ট্রের লাল কার্ড বিতর্কে চরম বিপাকে ফিফা সভাপতি এমবাপ্পের পেনাল্টি মিসে আলোচনায় ‘স্টাটার’, এই কৌশল কি এখন অকার্যকর? ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগেই নরওয়ের জার্সির স্টক শেষ

চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় বন্যার পানি খানিকটা কমলেও বিপাকে স্থানীয় বাসিন্দারা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১০, | ১৫:১৮:৩৫ |

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডব শেষে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেক এলাকায় রোদ ওঠার খবর পাওয়া গেছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ বেশির ভাগ এলাকার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এই স্বস্তির মধ্যেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করলেও উপকূলবর্তী খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া ও সরলসহ আটটি ইউনিয়নে উল্টো পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ২১২টি গ্রামের মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্রাম এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। প্লাবিত হয়েছে এক লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত চার দিন ধরে অধিকাংশ ঘরে রান্নার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, অনেক পরিবার নারী ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিলেও ঘরের মালামাল পাহারা দিতে পুরুষ সদস্যরা বুক সমান পানিতেই অবস্থান করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, স্লুইসগেট দিয়ে পানি নামার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত পানির চাপে পুরো এলাকা এখনো প্লাবিত। সরকারিভাবে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা আরও বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের যেসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে, সেখানে এখন ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষত চিহ্ন। বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ভেঙে যাওয়া সড়ক ও সেতু এবং মাছের খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। 

অন্যদিকে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি কমায় শহর এলাকা থেকে পানি নামছে এবং মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে। তবে দীঘিনালা-লংগদু, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি এবং সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনো পানির নিচে থাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে এবং একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির ধীর উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কসহ রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচির সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি আগের তুলনায় কমে এলেও আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..