✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১০, | ১৫:১১:৫৬ |আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে নরওয়েকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন একজনই, আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনকে নতুন করে চেনার কিছু নেই থ্রি লায়ন্স শিবিরের। ইংল্যান্ড দলের অনেকেই হয় প্রিমিয়ার লিগে তার সতীর্থ, আর না হয় প্রতিপক্ষ হিসেবে তার ধ্বংসাত্মক রূপ নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন। আর তাই নকআউটের এই মহাযুদ্ধের আগে ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল এবং তার দলের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ যে এই নরওয়েজিয়ান তারকা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
চলতি বিশ্বকাপে হালান্ড রয়েছেন তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্রাম পাওয়া ছাড়া বাকি চার ম্যাচের প্রতিটিতেই দলের জয়সূচক গোলটি এসেছে তার পা থেকে। এরপর শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেন এই স্ট্রাইকার। জাতীয় দলের জার্সিতে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স চোখ কপালে তোলার মতো। দেশের হয়ে টানা ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি, যেখানে তার নামের পাশে রয়েছে ২৭টি গোল। সবমিলিয়ে নরওয়ের হয়ে মাত্র ৫১ ম্যাচে ৬২ গোল করে ফেলেছেন হালান্ড, যার অর্থ প্রতি ৭১ মিনিটে একটি করে গোল করছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল করার এই অতিমানবীয় হার হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদেরও ছাড়িয়ে গেছে, যারা দেশের হয়ে হালান্ডের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন।
সাধারণত ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে মাঠে কেবল একজন গোলদাতাই নয়, একজন দুর্দান্ত গেম-মেকার হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে জুড বেলিংহামকে দিয়ে গোল করিয়ে কেইন সেই ধারণার প্রমাণও দিয়েছেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, কেবল গোল করার দিক থেকেই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও হ্যারি কেইনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন হালান্ড। গত তিন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন হালান্ড, যা বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে কেইনের করা ২৬টি অ্যাসিস্টের প্রায় সমান। এমনকি ২০২৪-২৫ মৌসুমে অ্যাসিস্টের দিক থেকে কেইনকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন এই নরওয়েজিয়ান।
চলতি বিশ্বকাপেও সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। কেইনের চেয়ে প্রায় ১০০ মিনিট কম খেলেও হালান্ড তার সতীর্থদের জন্য ছয়টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন, যেখানে কেইন পেরেছেন মাত্র চারটি। মাঠের এই পরিসংখ্যান পরিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে, হালান্ড এখন আর কেবল নিখুঁত ফিনিশার নন বরং একজন পুরোদস্তুর ক্রিয়েটরও বটে। আর এই বহুমুখী রূপ নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন নরওয়ের এই মহাতারকা।
সূত্র: মার্কা