✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

সামাজিক মাধ্যম

‘হা হা’ রিঅ্যাক্টের আড়ালে লুকিয়ে আছে যে সমাজ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৩, | ১০:৫৯:০৯ |

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুসংবাদ বা মানবিক বিপর্যয়ের পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা বা শোকাবহ ঘটনার সংবাদে শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি অনেক সময় বিদ্রূপাত্মক ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে, যা ডিজিটাল সহমর্মিতার সংকটকে সামনে আনছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ প্রকাশের জন্য বিভিন্ন রিঅ্যাক্ট ফিচার চালু থাকলেও এর অপব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে মৃত্যু বা বিপর্যয়ের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় ভুল বা ইচ্ছাকৃতভাবে হাসির প্রতিক্রিয়া দেওয়া সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনলাইন পরিবেশে মানুষের আচরণ বাস্তব জীবনের তুলনায় ভিন্ন হয়ে যায়। পর্দার আড়ালে থাকা পরিচয় এবং তাৎক্ষণিক সামাজিক প্রতিক্রিয়ার অভাব অনেক সময় সহানুভূতির ঘাটতি তৈরি করে। একে সামাজিক বিজ্ঞানে ‘অনলাইন ডিসইনহিবিশন ইফেক্ট’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও ডিজিটাল নাগরিকত্ব ও অনলাইন আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অনেক ব্যবহারকারী সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া উপযুক্ত, তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এই প্রবণতা শুধু অসংবেদনশীলতা নয়, বরং সাইবার বুলিংয়ের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে অনেকে অনলাইনে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্রূপাত্মক প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইন অপমান ও বিদ্রূপ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আত্মসম্মানহীনতার ঝুঁকি বাড়ায়। এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে সামাজিক মেরুকরণ ও ট্রল সংস্কৃতি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানো, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন আচরণ শিক্ষা দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।

তাদের মতে, একটি রিঅ্যাক্ট দেওয়ার আগে ব্যবহারকারীদের উচিত ভাবা—নিজের জায়গায় থাকলে প্রতিক্রিয়াটি কেমন লাগত। কারণ প্রযুক্তির অগ্রগতি যতই হোক, মানবিকতা ছাড়া তা অর্থহীন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..