ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ ছিল ইংল্যান্ডের জন্য সতর্কবার্তা : টুখেল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৩, | ১০:৫১:০৮ |

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও সন্তুষ্ট নন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল। তার মতে, ওই ম্যাচ দলের জন্য ছিল একটি বড় সতর্কবার্তা। বিশ্বকাপের পরের ম্যাচে ঘানার মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই রক্ষণভাগের দুর্বলতা দূর করার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি।

ঘানার বিপক্ষে জয় পেলেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করবে ইংল্যান্ড। পরে পানামা যদি ক্রোয়েশিয়ার কাছে পয়েন্ট হারায়, তাহলে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে এমন সম্ভাবনার মধ্যেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ দেখছেন না টুখেল।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪–২ গোলের জয়ের ম্যাচে প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের খেলা নিয়ে বেশ অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি। তার মতে, দল অযথাই অনেক বেশি পেছনে নেমে গিয়েছিল, যার ফলে প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

টুখেল বলেন, “আমাদের আরও ভালো করতে হবে। রক্ষণে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি নিচে নেমে গিয়েছিলাম। এটা আমাদের স্বাভাবিক খেলার ধরন নয়। আমরা নিজেদের কাঠামোর ওপর যথেষ্ট ভরসা রাখতে পারিনি।”

তিনি আরও বলেন, “একটি গোলের সময় আমাদের রক্ষণভাগে সাতজন খেলোয়াড় ছিল। এটি আমাদের পরিচিত চেহারা নয়। হয়তো গোলটি খাওয়া ভালোই হয়েছে, কারণ এটি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে এমন ভুল আর করা যাবে না।”

জার্মান এই কোচের মতে, বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণের নেওয়ার ইংল্যান্ড দ্রুত বল হারিয়েছে। এতে খেলোয়াড়দের পরিশ্রম অনেক বেড়ে যায় এবং প্রতিপক্ষ বারবার আক্রমণে ফেরার সুযোগ পায়।

তবে সমালোচনার পাশাপাশি ইতিবাচক দিকও দেখছেন টুখেল। বিশেষ করে বিরতির পর দলের প্রতিক্রিয়া তাকে মুগ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, “প্রতিকূল অবস্থার জবাব দিতে পেরেছে দল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করার পর দ্বিতীয়ার্ধে আমরা যেভাবে ফিরে এসেছি, সেটিই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। জয়টি পুরোপুরি প্রাপ্য ছিল।”

ঘানার বিপক্ষে একাদশে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ডেকলান রাইস সামান্য অস্বস্তি অনুভব করলেও অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরেছেন বুকায়ো সাকা। তবে তাকে শুরুতে মাঠে নামানোর সম্ভাবনা কম।

টুখেল জানিয়েছেন, দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা এখনও তীব্র। যারা প্রথম ম্যাচে সুযোগ পাননি, তারাও জায়গা পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। কোচের মতে, আত্মতুষ্টির কোনো লক্ষণ তিনি দেখছেন না।

এদিকে এবারের বিশ্বকাপে গরম আবহাওয়ার কারণে দুই অর্ধেই পানি পানের বিরতি রাখা হচ্ছে। এই নিয়ম নিয়ে খুব একটা খুশি নন টুখেল। তার ভাষায়, “এতে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ভেঙে যায়। ফুটবলের সৌন্দর্যের একটি অংশ হলো টানা খেলা চলা। বিরতিগুলো সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট করে। তবে সব দলের জন্য একই নিয়ম হওয়ায় ন্যায্যতার দিক থেকে এর যৌক্তিকতা আছে।”

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..