ডেনিস উন্দাভ: কারখানা শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপের নায়ক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২১, | ১৭:৩৮:৩০ |

একসময় যাকে ফুটবলের জন্য ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই ডেনিস উন্দাভ এখন জার্মানির জার্সিতে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নাম। জীবনের কঠিন বাস্তবতা, আর্থিক সংকট ও প্রত্যাখ্যানকে পেছনে ফেলে ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার আজ বিশ্বমঞ্চে নিজের সামর্থ্যের উজ্জ্বল প্রমাণ দিচ্ছেন।

আইভরি কোস্টের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জার্মানি যখন পরাজয়ের শঙ্কায়, তখন বদলি হিসেবে নেমে দলের ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন উন্দাভ। তাঁর জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের সুবাদে ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে জার্মানি।

শুধু আইভরি কোস্ট ম্যাচেই নয়, বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেও নজর কেড়েছিলেন উন্দাভ। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয়ে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করার বিরল কৃতিত্ব গড়েছেন এই ফরোয়ার্ড। জার্মানির হয়ে সর্বশেষ এমন কীর্তি গড়েছিলেন মিরোস্লাভ ক্লোসা, ২০০২ বিশ্বকাপে।

তবে এই সাফল্যের পেছনের গল্প মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ১৪ বছর বয়সে জার্মান ক্লাব ভার্ডার ব্রেমেন তাঁকে জানিয়ে দেয়, উচ্চতা কম হওয়ায় ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাঁর কোনো জায়গা নেই। সেই প্রত্যাখ্যান ভেঙে দিয়েছিল কিশোর উন্দাভকে, কিন্তু স্বপ্ন দেখা থামাননি তিনি।

১৭ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসে যোগ দেন উন্দাভ। সেখানে সপ্তাহে মাত্র ১২০ পাউন্ড আয় করতেন তিনি। ফুটবল থেকে পাওয়া অর্থে জীবনযাপন সম্ভব না হওয়ায় একটি কারখানায় লেজার মেশিন অপারেটর হিসেবেও কাজ করতে হতো তাঁকে।

এক সাক্ষাৎকারে উন্দাভ বলেন, ‘ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে কারখানায় যেতাম। কাজ শেষে অনুশীলন, তারপর বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যেত। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই কাজটা করতে হতো।’

দীর্ঘ সংগ্রামের পর ২০২০ সালে বেলজিয়ামের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-গিলোয় যোগ দেন তিনি। পরের মৌসুমে দলকে শীর্ষ লিগে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এরপর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ২৫ গোল করে নজরে আসেন ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের।

তবে ইংল্যান্ডে তাঁর সময়টা খুব একটা সফল হয়নি। ২০২২-২৩ মৌসুমে ২২টি লিগ ম্যাচে মাত্র পাঁচ গোল করার পর তাঁকে ধারে পাঠানো হয় স্টুটগার্টে। পরে জার্মান ক্লাবটি তাঁকে স্থায়ীভাবে দলে ভেড়ায়।

স্টুটগার্টে নতুন করে নিজেকে খুঁজে পান উন্দাভ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্ডেসলিগায় ১৯ গোল করে লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। সেই পারফরম্যান্সই তাঁকে জার্মানির বিশ্বকাপ দলে জায়গা এনে দেয়।

বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন উন্দাভ। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে একুয়েডরের বিপক্ষে তাঁকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..