মেসি-রোনালদোসহ অনেক খেলোয়াড়ের জার্সির হাতায় বিশেষ ‘প্যাচ’ কেন?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৮, | ২২:২১:২৭ |
এবারের ফিফা বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের জার্সিতে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন বিশেষ প্যাচ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জার্সির হাতায় সোনালি রঙের একটি বিশেষ ব্যাজ নজর কাড়ছে, যা তার দলের অন্য সদস্যদের জার্সিতে নেই।

একই ধরনের ব্যাজ দেখা গেছে আরও কিছু তারকা খেলোয়াড়ের জার্সিতেও, যা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে চলছে নানা ব্যাখ্যা ও আলোচনা।

এই প্যাচগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো গোল্ডেন বুটজয়ীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ব্যাজ। রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেইন, কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ব্রাজিল বিশ্বকাপে ছয় গোল করে শীর্ষ স্কোরার হওয়া হামেস রদ্রিগেজ—সবাই এই বিশেষ সম্মানের আওতায় এসেছেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী শুধু বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ীরাই এই সোনালি ব্যাজ পরতে পারেন।

মেসি-রোনালদোসহ অনেক খেলোয়াড়ের জার্সির হাতায় বিশেষ ‘প্যাচ’ কেন?
অবশেষে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ভোজিনহার, মাঠ থেকে সরাসরি দেখবেন মা
এছাড়া বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর খেলোয়াড়দের জন্যও রয়েছে আলাদা সোনালি ব্যাজ, যেখানে ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, স্পেন ও ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নাম যুক্ত রয়েছে। এই ব্যাজ মূলত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের ঐতিহাসিক অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য।

মেসি-রোনালদোসহ অনেক খেলোয়াড়ের জার্সির হাতায় বিশেষ ‘প্যাচ’ কেন?
আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ কবে, প্রতিপক্ষ কে
তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জার্সিতে থাকা ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ। দুই মহাতারকা এবারের আসরে তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন, যা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল রেকর্ড। তাদের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই বিশেষ ব্যাজ চালু করেছে।

এই ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজে রয়েছে সোনালি বিশ্বকাপ লোগো, খেলোয়াড়ের নাম, দেশের পতাকা এবং ব্যক্তিগত উদযাপনের প্রতীক। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ব্যাজে তার বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন এবং লিওনেল মেসির ব্যাজে তার দুই হাত প্রসারিত উদযাপনের চিত্রও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বকাপে তাদের প্রথম অংশগ্রহণ ছিল ২০০৬ সালে, এবং এবারের আসরেই সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ধরা হচ্ছে তাদের অংশগ্রহণকে।

বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণভাবে করেছেন লিওনেল মেসি। প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন, যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোজের সমান। পরবর্তী ম্যাচে আরেকটি গোল করলেই তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন।

অন্যদিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শুরুটা হয়েছে হতাশাজনকভাবে। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে গোলশূন্য থেকে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যেখানে দলও ১-১ গোলে ড্র করেছে। তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

বিশ্বকাপে নতুন অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্যও বিশেষ প্যাচ যুক্ত করেছে ফিফা, যেখানে ‘Debut FIFA World Cup’ লেখা ব্যাজ তাদের প্রথম অংশগ্রহণকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। একইভাবে পাঁচ বা তার বেশি বিশ্বকাপে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের জন্য রয়েছে ‘লিগ্যাসি’ ব্যাজ, যা তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদানকে সম্মান জানায়।

এই তালিকায় রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার ও জাপানের ইউতো নাগাতোমো। গোলরক্ষকদের জন্যও রয়েছে আলাদা স্বীকৃতি, যেখানে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও বেলজিয়ামের থিবু কোর্তোয়ার মতো গোল্ডেন গ্লাভসজয়ীরা বিশেষ এই প্যাচ পাচ্ছেন।

ফিফার মতে, এসব প্যাচের মূল উদ্দেশ্য হলো ফুটবলের ইতিহাসে অবদান রাখা কিংবদন্তিদের সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের স্বীকৃতি দেওয়া। ম্যাচ শেষে এসব ব্যাজ সংরক্ষণযোগ্য স্মারক হিসেবে রাখা হবে, যা ভবিষ্যতে ফুটবল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..