যে কারণে অস্পষ্ট ভাষায় সাজানো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি, যা বলছেন বিশ্লেষক

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৭, | ২০:০৬:৫৩ |

দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৪ জুন (রবিবার) চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছে উভয়পক্ষ। আগামী (১৯ জুন) শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা কার্যকর হবে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই ইতোমধ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বহুল প্রতীক্ষিত এই চুক্তির খসড়ার ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আলোচ্য অন্তর্বর্তী সমঝোতার খসড়া চুক্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন শব্দচয়ন রাখা হয়েছে, যাতে উভয় পক্ষ- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- নিজ নিজ দেশে এটিকে ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ এসলামী বলেন, চুক্তির ভাষা যদি কঠোর ও একক ব্যাখ্যাযোগ্য করা হতো, তাহলে কোনও পক্ষের সঙ্গেই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতো না।

তিনি বলেন, “যদি তারা শুধুমাত্র একটিমাত্র ব্যাখ্যা বহন করবে—এমন একটি কঠোর চুক্তি চাইতো, তাহলে কোনওভাবেই এই সমঝোতায় পৌঁছানো যেতো না।”

বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যু, ইরানি সম্পদের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা- এসব গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনভাবে ফাঁকা রাখা হয়েছে, যাতে পরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়।

অধ্যাপক এসলামী আরও বলেন, “চুক্তির ভাষা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে উভয় পক্ষই নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিসরে এটিকে বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, ইরানের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সমঝোতা কোনও চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার একটি সূচনা মাত্র।

“আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে অত্যন্ত কঠিন আলোচনা চলবে। এটি উভয় পক্ষের জন্য একটি দীর্ঘ দৌড়ের শুরু মাত্র। যদি মূল ইস্যুগুলোতে সমঝোতা না হয়, তবে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যকর থাকবে না,” বলেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সমঝোতা মূলত সময় কেনার একটি কৌশল, যেখানে বড় বিরোধগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..