✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৫, | ১৮:৪৩:০৩ |বড় কোনো ক্রীড়া আসর এলেই দর্শকদের আগ্রহ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশ্বকাপ, ইউরো কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো টুর্নামেন্টে কোটি কোটি মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখার মাধ্যম খোঁজেন। এই সুযোগকে কাজে লাগায় অবৈধ স্ট্রিমিং নেটওয়ার্ক। জনপ্রিয় ম্যাচকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য অননুমোদিত লিংক, যা শুধু কপিরাইট লঙ্ঘনই করে না, বরং ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভুয়া স্ট্রিমিং সাইট শুধু খেলা দেখানোর নামেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্যবহারকারী লিংকে প্রবেশ করলেই অনেক ক্ষেত্রে তার ডিভাইস, অনলাইন কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা চুরি করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এসব তথ্য অপরাধী চক্রের হাতেও পৌঁছে যায়। ফলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ, আর্থিক প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে হয়রানির ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিভিন্ন গবেষণায় এই ঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২১ সালে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ওয়েবরুট একটি লাইভ ফুটবল ম্যাচ চলাকালে ২০টি অবৈধ স্ট্রিমিং সাইট পর্যবেক্ষণ করে। এতে দেখা যায়, ৯২ শতাংশ সাইটেই ট্রোজান, অ্যাডওয়্যার, ব্রাউজার হাইজ্যাকার ও ফিশিং লিংকের মতো ক্ষতিকর উপাদান ছিল। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর অজান্তেই ডিভাইস সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্য একটি গবেষণায় বলা হয়, অবৈধ স্ট্রিমিং ব্যবহারকারীদের বড় অংশই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যবহারকারীদের প্রায় ৩৯ শতাংশ সাইবার অপরাধের শিকার হয়েছেন এবং গড়ে ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৮০ পাউন্ড। অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তারা ইতিমধ্যে হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
বড় ক্রীড়া আসরগুলোতে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ চলাকালে একাধিক দেশে শতাধিক অবৈধ স্ট্রিমিং ডোমেইন জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে পাইরেসির কারণে সম্প্রচারস্বত্ব নিয়েও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠে।
অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি পুরো ক্রীড়া অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রতিবছর ক্রীড়া সম্প্রচার পাইরেসির কারণে বিশ্বব্যাপী বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হয় বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বড় লিগ ও টুর্নামেন্টগুলো এই ক্ষতির সরাসরি প্রভাব বহন করে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরেও ইতিমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার অবৈধ স্ট্রিমিং লিংক বন্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে আদালতের নির্দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতারা পাইরেটেড ওয়েবসাইট ব্লক করছে।
সুরক্ষিত থাকার উপায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলা দেখার জন্য সব সময় বৈধ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। বাংলাদেশে অনুমোদিত স্ট্রিমিং সার্ভিস ব্যবহার করলে ঝুঁকি অনেক কমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অচেনা লিংক এড়িয়ে চলা উচিত। কোনো সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত বা ব্যাংক তথ্য না দেওয়াই নিরাপদ।
কোনো ব্যবহারকারী যদি ইতিমধ্যে সন্দেহজনক লিংকে প্রবেশ করে থাকেন, তাহলে দ্রুত ডিভাইসে ম্যালওয়্যার স্ক্যান করা, গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনা মূল্যের কনটেন্ট অনেক সময়ই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বহন করে। একটি খেলা দেখার বিনিময়ে ব্যক্তিগত তথ্য হারানো বা আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। তাই খেলা দেখার জন্য বৈধ মাধ্যমই সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প।