বিশ্বকাপ মঞ্চে শাকিরার টারকুইজ-এর রহস্য কী?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১৪, | ২০:০৮:৪১ |
ফুটবল বিশ্বকাপ মঞ্চে সংগীতশিল্পী শাকিরার উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের সমাপনী আয়োজনে তিনি পরিবেশন করেছিলেন ‘হিপস ডোন্ট লাই’। এরপর ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘লা লা লা’ গান পরিবেশন করে আবারও দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি।

প্রতিবারের মতো এবারও শাকিরার পারফরম্যান্সে ছিল ভিন্নমাত্রার আকর্ষণ। তার পোশাক, নৃত্য এবং সোনালি ঢেউখেলানো চুল ভক্তদের দৃষ্টি কেড়েছে সহজেই।

এবার ‘ডাই ডাই’ গানে শাকিরাকে দেখা গেছে একাধিক লুকে। জানা যায়, পুরো পারফরম্যান্সে তিনি পরেছেন পাঁচটি ভিন্ন পোশাক। প্রতিটি নকশায় ছিল ফ্যাশন, কারুশিল্প ও টেকসই ভাবনার সমন্বয়। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে টারকুইজ রঙের বিশেষ পোশাকটি।

এই পোশাকটি ডিজাইন করেছেন গানার ডেথেরেজ এবং তার মায়ামিভিত্তিক টিম। পুরো স্টাইলিং প্রজেক্টের সৃজনশীল তত্ত্বাবধানে ছিলেন শাকিরার দীর্ঘদিনের স্টাইলিস্ট নিকোলাস ব্রু। তার পরিকল্পনায় পোশাকে একসঙ্গে ফুটে উঠেছে গ্ল্যামার, নাটকীয় সিলুয়েট এবং সূক্ষ্ম কারুকাজ।



মজার বিষয় হলো, এত আলোচিত এই পোশাকটি তৈরি করতে মাসের পর মাস সময় লাগেনি। মাত্র চার দিনের টানা পরিশ্রমেই এটি সম্পন্ন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল যেন এক ধরনের রুদ্ধশ্বাস দৌড়।

ঘটনার শুরু কলম্বিয়ার মেডেলিনে। তখন ডিজাইনার গানার ডেথেরেজ, ক্রিস্টোফার মিনাফো ও কেটি ম্যামি সেখানে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই তারা শাকিরার নতুন মিউজিক প্রজেক্টে কাজ করার প্রস্তাব পান। সময় নষ্ট না করে দ্রুত তারা মায়ামির উদ্দেশে রওনা দেন।

মায়ামিতে পৌঁছে শুরু হয় সময়ের সঙ্গে লড়াই। শুধু শাকিরার পোশাকই নয়, তার সঙ্গে থাকা নৃত্যশিল্পীদের জন্য আরও ছয়টি পোশাকও তৈরি করতে হয় ড্রেস রিহার্সালের আগেই। একই সঙ্গে ছিল জায়গার সংকট ও সময়ের চাপ।

একটি হোটেল কক্ষকেই অস্থায়ী ওয়ার্কশপে রূপান্তর করা হয়। সেখানেই চলে ডিজাইন, কাটিং, সেলাই এবং শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনের কাজ।প্রয়োজনীয় উপকরণ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে দ্রুত সংগ্রহ করা হয়। পুরো টিম প্রায় নির্ঘুম অবস্থায় কাজ শেষ করে।

নিকোলাস ব্রুর নির্দেশনায় হাতে তৈরি করা হয় পোশাকটির ক্রোশের কারুকাজ করা বেল্ট। চামড়ার ওপর বসানো হয় টারকুইজ রঙের পুঁতি, সঙ্গে ছিল সূক্ষ্ম বুননের কাজ। পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেন গানার ডেথেরেজ।

পরে এক সাক্ষাৎকারে ডেথেরেজ জানান, “স্কুলজীবনে তাঁতের কাজ ও বুনন নিয়ে তাকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হতো। অথচ সেই দক্ষতাই পরবর্তীতে তাকে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পপ তারকা শাকিরার জন্য পোশাক তৈরির সুযোগ এনে দেয়। তার মতে, যে শখ একসময় তাকে সমস্যায় ফেলত, সেটিই পরে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে ওঠে।”

পোশাকটির নকশাও ছিল বেশ জটিল। জেড সবুজ ও নীলের বিভিন্ন শেড মিলিয়ে তৈরি এই পোশাকে সূক্ষ্ম অ্যাপলিক ও পুঁতির কাজ বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। নাচের সময় পোশাকটি যেন স্বাভাবিকভাবে নড়ে এবং ক্যামেরায় আকর্ষণীয় দেখায়, সে বিষয়েও আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্কার্টের ফ্রিঞ্জ নাচের মুদ্রার সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। এমনকি পোশাকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শাকিরার পেটেও পুঁতি দিয়ে বিশেষ নকশা করা হয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..