✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-১২, | ১১:৫০:০০ |চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যেমন জমে উঠেছে, তেমনি মাঠের বাইরেও একটি বিষয় নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল কৌতুহল তৈরি হয়েছে। কয়েক দশক ধরে যে দলটিকে বিশ্ববাসী ‘চেক প্রজাতন্ত্র’ বা ‘চেক রিপাবলিক’ নামে চিনে এসেছে, এবারের বিশ্বকাপে তাদের জার্সিতে ও স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে একটি নতুন নাম‘চেকিয়া’। হঠাৎ করে এই নামবদল অনেক ভক্তের কাছে চমক মনে হলেও, এর পেছনের বাস্তবতাটি কিন্তু প্রায় এক দশকের পুরোনো।
আসলে ২০১৬ সালেই ইউরোপের এই দেশটি তাদের দুটি আনুষ্ঠানিক নাম চূড়ান্ত করে। কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজের জন্য রাখা হয় ‘চেক প্রজাতন্ত্র’, আর গণমাধ্যম, পর্যটন এবং ক্রীড়াঙ্গনের মতো দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেছে নেওয়া হয় সংক্ষিপ্ত রূপ ‘চেকিয়া’। ফিফা এবং উয়েফার মতো বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থাগুলো এখন তাদের সব ধরনের সম্প্রচার, খেলোয়াড়দের তালিকা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই সংক্ষিপ্ত নামটিই ব্যবহার করছে, যা এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে পুরোপুরি সবার চোখে পড়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি রক্তপাতহীন ‘ভেলভেট ডিভোর্স’ বা মখমল বিভাজনের মাধ্যমে তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়া ভেঙে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যার একটি চেকিয়া এবং অন্যটি স্লোভাকিয়া। স্বাধীনতার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ব্র্যান্ডিং আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করছিল দেশটি। ফ্রান্স, জার্মানি বা অস্ট্রিয়ার মতো অন্যান্য দেশের মতোই একটি ছোট ও সহজে উচ্চারণযোগ্য নাম চাচ্ছিল তারা। ফুটবল জার্সিতে বা স্টেডিয়ামের স্কোরবোর্ডে ‘চেক প্রজাতন্ত্র’ নামটি বেশ দীর্ঘ শোনাত বলেই মূলত ‘চেকিয়া’ নামটিকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার এই উদ্যোগ।
ইউরো ২০২৪-এর পর চলতি বিশ্বকাপেও এই নামের জয়জয়কার চলছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বোহেমিয়া থেকে চেকোস্লোভাকিয়া হয়ে আজকের এই ‘চেকিয়া’ হয়ে ওঠার গল্পটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হলেও ২০২৬ সালের এই মহোৎসবে এসে তা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।