সর্বশেষ :

মানুষ এমন নৃশংসও হয়?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৭, | ০০:৪২:১৫ |

ঘর ভাড়ার মাত্র দুই হাজার রুপির পরিশোধ করতে না পেরে নিজের স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে বাড়িওয়ালার হাতে তুলে দেওয়ার এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে ভারতের গুজরাটে। এই চরম অমানবিক ও নৃশংস ঘটনায় নির্যাতিত নারীর স্বামী এবং অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা উভয়কেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের শিল্পনগরী মোর্বিতে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চরম আর্থিক অনটনে ভুগতে থাকা এই পরিবারটি মূলত গুজরাটের সুরেন্দ্রনগরের বাসিন্দা। গত ছয় মাস আগে জীবিকার সন্ধানে তারা মোর্বিতে চলে আসে এবং সেখানে দুই হাজার রুপি মাসিক চুক্তিতে একটি ঘর ভাড়া নেয়। কিন্তু সেখানে আসার পরও তাদের আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, উল্টো ক্রমাগত বাড়তে থাকে ধারদেনা। 

একপর্যায়ে গত চার মাসের ঘর ভাড়া বকেয়া পড়ে যায় তাদের। এই বকেয়া টাকা শোধ করার উপায় হিসেবেই ওই ব্যক্তি নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে নির্যাতনের মুখে ঠেলে দেওয়ার এক জঘন্য চুক্তি করে বসেন বাড়িওয়ালার সাথে।

ভাড়ার টাকার পরিবর্তে দিনের পর দিন ওই নারী ও তার নাবালিকা মেয়ের ওপর নির্মম যৌন নির্যাতন চালায় অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা। পরবর্তীতে কোনোভাবে ঘটনাটি নির্যাতিতা নারীর মায়ের নজরে আসে। তিনি কালবিলম্ব না করে সরাসরি মোর্বি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নির্যাতিতার স্বামী ও বাড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে।

এই নৃশংস ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনসহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করেছে। মোর্বির উপ-পুলিশ সুপার জে এম লাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বাবা ও বাড়িওয়ালার যৌথ যোগসাজশের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সাথে এই চরম অপরাধের সাথে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

সূত্র: এনডিটিভি 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..