সর্বশেষ :

নির্বাচন হলেই ক্ষমতা হারাবে নেতানিয়াহুর দল: জরিপ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৭, | ০০:৩৬:৪২ |

ইসরায়েলে এখন নির্বাচন হলে বিরোধী জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে বলে এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে দেশটির ৫৫ শতাংশ নাগরিক চান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া উচিত।

শুক্রবার প্রকাশিত এই জরিপের তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি দৈনিক মারিভ। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাজার ইনস্টিটিউট ৫০২ জন ইসরায়েলির ওপর এ জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কী করা উচিত- লিকুদ পার্টির নেতৃত্বে থেকে নির্বাচন করা নাকি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো। এতে ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, তারা চান নেতানিয়াহুর উচিত রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া। অন্যদিকে ৩৮ শতাংশ চান তিনি লিকুদের নেতৃত্বে থাকুন। আর ৭ শতাংশ এ বিষয়ে কোনও মত দেননি।

জরিপ অনুযায়ী, এখন নির্বাচন হলে বিরোধী শিবির সংসদে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে পারে।

মারিভ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা, লেবানন ইস্যুতে নতুন করে জটিলতায় জড়িয়ে পড়া এবং দেশটির অভ্যন্তরে সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের দল ওৎজমা ইয়েহুদিতের জনপ্রিয়তায়।

জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটের আসন সংখ্যা কমে ৪৯-এ নেমে আসতে পারে। বিপরীতে ইহুদি বিরোধী জোট ৬১টি আসন পেতে পারে এবং আরব দলগুলো পেতে পারে ১০টি আসন।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত মারিভের আরেক জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ৫১টি আসন, বিরোধী শিবির ৫৯টি এবং আরব দলগুলো ১০টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৬১টি আসন প্রয়োজন হয়।

এদিকে ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরে আগাম নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানা গেছে। হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিরোধী দল সংসদ ভেঙে দেওয়ার জন্য দুটি বিল উত্থাপন করার পর সরকারও পাল্টা একটি বিল জমা দিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে নেসেটে সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং নতুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমান নেসেটের মেয়াদ আগামী অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা। তবে সেপ্টেম্বরেই আগাম নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..