মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَ عَلَّمۡنٰهُ صَنۡعَۃَ لَبُوۡسٍ لَّكُمۡ لِتُحۡصِنَكُمۡ مِّنۡۢ بَاۡسِكُمۡ ۚ فَهَلۡ اَنۡتُمۡ شٰكِرُوۡنَ
সরল অনুবাদ :
আর আমিই তাঁকে তোমাদের জন্য বর্ম বানানো শিক্ষা দিয়েছিলাম। যাতে তা যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করতে পারে।
সুতরাং তোমরা কি কৃতজ্ঞ হবে? (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮০)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
আল্লাহ তাআলা নবী দাউদ (আ.)-কে লৌহবর্ম তৈরী শিক্ষা দেন। যেমন আল্লাহ তাআলা সুরা সাবার ১০ নাম্বার আয়াতে বলেন, আমি তার জন্য লোহাকে নমনীয় করে দিয়েছিলেন। এটা ছিল দাউদ (আ.)-এর একটি মুজিযা। তিনি লোহাকে যেভাবে চাইতেন ঘুরাতে-বাঁকাতে পারতেন।
তিনি লোহা দ্বারা এমন নিখুঁত ও পরিমাপ মত বর্ম তৈরি করতে পারতেন, যার অংশসমূহ পরস্পর সুসমঞ্জস হত। উলামায়ে কেরাম এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, এর দ্বারা বুঝা যায়, মানুষের উপকারে আসে এমন যে-কোন শিল্প ও কারিগরি বিদ্যা ইসলামে প্রশংসনীয়। (তাফসিরে তাওজিহুল কোরআন, মুফতি তাকি উসমানি, কুরতুবি)
অস্ত্র জাতীয় সামগ্রীর মধ্যে যেগুলো পরিধান করে অথবা গলায় লাগিয়ে ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে لَبُوسٍ বা لباس বলা হয়। তবে এখানে লৌহবর্ম উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে, যা যুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।
আল্লাহ তাআলা দাউদ (আ.)-এর জন্য লোহা নরম করে সৃষ্টি করেছেন। এই নরম করার একাধিক অর্থ হতে পারে। এক. তাঁর হাতের স্পর্শে লোহা আপনা-আপনি নরম হয়ে যেত, তিনি মোমের ন্যায় তাকে যেভাবে ইচ্ছা মোটা সরু করতে পারতেন। দুই. আগুনে লাগিয়ে নরম করার কৌশল তাঁকে বলে দেয়া হয়েছিল, যা আজকাল লৌহ কারখানাগুলোতে করা হয়। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন, তাফসিরে জাকারিয়া)
কাতাদাহ (রহ.) বলেন, দাউদ (আ.)-এর আগে বর্ম তৈরী হত; কিন্তু তা হত স্বাভাবিক পাতের, কড়া ও শিকলহীন।
দাউদ (আ.) সর্বপ্রথম কড়া ও শিকলবিশিষ্ট বর্ম তৈরী করেন। (ইবনে কাসির, তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
শিক্ষা ও বিধান
১. সমস্ত জ্ঞান ও দক্ষতার মূল উৎস আল্লাহ। তাই মানুষ যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে—সবই আল্লাহর দান।
২. ইসলাম বৈধ প্রযুক্তি ও শিল্পকে উৎসাহিত করে। আর বর্ম তৈরি ছিল সে যুগের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। এভাবে ইসলাম উপকারী বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও শিল্পের উন্নয়নকে সমর্থন করে।
৩. আত্মরক্ষা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা বৈধ। তাই যুদ্ধে নিরাপত্তার জন্য শত্রুর মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা শরিয়তসম্মত ও জরুরি।
৪. নবীরা শুধু ইবাদতকারীই ছিলেন না, কর্মমুখীও ছিলেন দাউদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতে কাজ করতেন। এতে শ্রমের মর্যাদা ও হালাল উপার্জনের গুরুত্ব বোঝা যায়।
৫. মানবকল্যাণে যে কোনো আবিষ্কার আল্লাহর নেয়ামত। কেননা যে প্রযুক্তি মানুষের জীবন রক্ষা করে এবং কল্যাণ বয়ে আনে, তা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ।
৬. আল্লাহর নেয়ামত মানুষকে বিনয়ী হতে শেখায়। মানুষ যত উন্নত প্রযুক্তিই অর্জন করুক, মনে রাখতে হবে—এসবই আল্লাহর দান। তাই অহংকার নয়, কৃতজ্ঞতাই কাম্য।
এ জাতীয় আরো খবর..