এবার আলোচনায় ‘নেতানিয়াহু’, মানুষ দেখলেই দেয় গুঁতো

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ১১:১৩:২০ |
নারায়ণগঞ্জের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এবার পশুর চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তাদের নাম নিয়ে। কয়েকদিন আগেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদলে দেখতে একটি মহিষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।

সেই আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেকটি ক্ষ্যাপাটে মহিষ, যার নাম রাখা হয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-এর নামে।

এদিকে আগের মহিষটি দেশজুড়ে ভাইরাল হওয়ার পর কোনো ধরনের ঝামেলা বা বিতর্ক তৈরি হতে পারে কি না, সেই আতঙ্কে এখন খামার কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে ‘নেতানিয়াহু’ নামটি উচ্চারণ করতে অস্বস্তি বোধ করছেন। শুরুতে এই নামেই প্রচার করলেও এখন তারা দাবি করছেন, নামটি তারা রাখেননি, দর্শনার্থীরাই মহিষটিকে এ নামে ডাকতে শুরু করেছেন।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দাসেরগাঁও এলাকার এস এস ক্যাটেল ফার্ম-এ থাকা এই মহিষটি সাধারণ কোনো পশু নয়।

গোলাপি রঙের অ্যালবিনো জাতের বিশালাকৃতির মহিষটির ওজন প্রায় ৭৬০ কেজি। তবে তার বিশাল দেহের চেয়েও বেশি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে তার রাগী চেহারা এবং অস্বাভাবিক বদমেজাজি আচরণ।

খামারিদের ভাষ্য, মহিষটি এতটাই খিটখিটে স্বভাবের যে খাবার দিতে গেলেও শিং উঁচিয়ে তেড়ে আসে। অনেক সময় মনে হয় যেন যুদ্ধ ঘোষণা করছে।

তার চোখের তীক্ষ্ণ চাহনি, মাথার চুলের সিঁথির অদ্ভুত ধরন এবং আগ্রাসী আচরণের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর চেহারা ও ব্যক্তিত্বের মিল খুঁজেই দর্শনার্থীরা তাকে ‘নেতানিয়াহু’ নামে ডাকতে শুরু করেন।
খামারে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। কেউ ভিডিও করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ দূর থেকে দাঁড়িয়ে মহিষটির আচরণ পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেই হচ্ছে সবাইকে। কারণ কাছে গেলেই মহিষটি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে, দিচ্ছে গুঁতো।
 
সরকারি তোলারাম কলেজের কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, ফেসবুকে নাম শুনে দেখতে এসেছি। কাছে যেতেই এমনভাবে তাকালো, মনে হলো এখনই গুঁতো দেবে। পুরো যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব। মহিষটার মেজাজ এতটাই গরম যে আদর করতে গেলেও তেড়ে আসে।

খামারের কর্মী আল আমিন জানান, মহিষটিকে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। দিনে দুইবার গোসল করানো হয়, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয় এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। তবে এর কাছে যেতে খামারের অনেক কর্মীই ভয় পান।

চেহারার মিল থাকলেও ‘নেতানিয়াহু’ নামটি উচ্চারণের সময় খামারের মালিকপক্ষকে বেশ আতঙ্কিত দেখা যায়। তারা বলছেন, এই নাম তারা দেননি, দর্শনার্থীরাই মজা করে এমন নাম ছড়িয়ে দিয়েছেন।

ফার্মের ব্যবস্থাপক মেহেদি বলেন, চুলের সিঁথি, চোখের চাহনি আর রাগী আচরণের কারণেই অনেকে মহিষটাকে ‘নেতানিয়াহু’ বলে ডাকছে। ছোট থেকেই একটু দুষ্টু স্বভাবের। রাখালদেরও তেড়ে আসে। তবে দেখতে সুন্দর হওয়ায় সবাই পছন্দ করছে।

খামারের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, ব্যতিক্রমী গোলাপি আবাযুক্ত এই মহিষ দেখতে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। আমরা এখনো এর নির্দিষ্ট মূল্য ঠিক করিনি। তবে অ্যালবিনো জাতের মহিষ সাধারণত ছয় থেকে কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া এগ্রো ফার্ম-এর ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের একটি মহিষ তার অদ্ভুত চেহারা ও নামের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। পরে সেটি একজন ক্রেতা কিনে নেন। তবে নতুন আলোচিত ‘নেতানিয়াহু’ এখনো খামারেই রয়েছে, অপেক্ষায় তার উপযুক্ত ক্রেতার।
 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..