তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে এসি কেনার কথা ভাবলে বর্তমান বাজারে ‘ইনভার্টার’ এবং ‘কনভার্টিবল’—এই দুটি শব্দ সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। দুটি প্রযুক্তিই আধুনিক ও সাশ্রয়ী হলেও এদের কাজের ধরনে রয়েছে মৌলিক কিছু পার্থক্য।
ইনভার্টার এসি: স্বয়ংক্রিয় আরাম ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়
ইনভার্টার এসির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কমপ্রেসর প্রযুক্তি। এটি ঘরের তাপমাত্রা বুঝে নিজে থেকেই গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ঘরের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা অর্জিত হওয়ার পর কমপ্রেসর পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে খুব ধীরগতিতে চলতে থাকে।
এর অন্যতম সুবিধা হলো এটি তুলনামূলক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। কারণ বারবার স্টার্ট নিতে অতিরিক্ত ভোল্টেজ লাগে না। ঘরের তাপমাত্রা সবসময় স্থিতিশীল থাকে এবং শব্দ খুব কম হয়।
ইনভার্টার এসি বেডরুমের জন্য সবচেয়ে আদর্শ, যেখানে রাতে দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্ন শান্তির প্রয়োজন হয়।
কনভার্টিবল এসি: ব্যবহারকারীর হাতে নিয়ন্ত্রণ
কনভার্টিবল এসি হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা ব্যবহারকারীকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী এসির কুলিং ক্ষমতা পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়।
এতে বিভিন্ন মোড থাকে (যেমন- ৪০%, ৬০%, ১০০% বা ১১০% কুলিং)। ঘরে মানুষের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে আপনি নিজেই এর পাওয়ার সেট করতে পারেন।
এর অন্যতম সুবিধা হলো, ঘরে মানুষ কম থাকলে কম টননেজে চালিয়ে বিদ্যুৎ বাঁচানো যায়। অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতিতে কুলিং ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানো সম্ভব এবং এটি ব্যবহারকারীর চাহিদার ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ দেয়।
এই ধরনের এসি সাধারণত ড্রয়িং রুম বা লিভিং রুমের জন্য সেরা, যেখানে মানুষের যাতায়াত এবং লোক সংখ্যা ঘনঘন পরিবর্তন হয়।
এক্ষেত্রে ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিচের দুটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। আপনি যদি চান এসি নিজেই সব নিয়ন্ত্রণ করুক এবং ঘর সবসময় আরামদায়ক থাকুক, তবে ইনভার্টার এসি কিনুন।
আর আপনার ঘরে যদি মাঝেমধ্যে অনেক মানুষের সমাগম হয় এবং আপনি নিজে কুলিং মোড পরিবর্তন করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে আগ্রহী হন, তবে কনভার্টিবল এসি হবে সঠিক পছন্দ।
এ জাতীয় আরো খবর..