চীনা কোম্পানির কাছে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তি পাচারের দায়ে স্যামসাংয়ের এক সাবেক গবেষককে কারাদণ্ড দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি ফাঁসের বিনিময়ে তিনি প্রায় ২০ লাখ ডলারের সমপরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
বুধবার স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের সাবেক ওই গবেষককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট’।
ওই ব্যক্তিকে ‘শিল্প প্রযুক্তি সুরক্ষা আইন’ লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। রায়ে আদালত বলেছে, পাচার হওয়া বিভিন্ন তথ্য ছিল দেশের ‘জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি’ এবং তিনি পরিকল্পিতভাবে এই তথ্য চুরির ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
৫৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি গত বছর অভিযুক্ত হওয়া ১০ জনের অন্যতম, যাদের বিরুদ্ধে চীনা চিপ নির্মাতা কোম্পানি ‘চ্যাংক্সিন মেমোরি টেকনোলজিস’ বা সিএক্সএমটি’র কাছে মেমোরি চিপ সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগ ছিল।
কর্তৃপক্ষের মতে, এ প্রযুক্তি পাচার চীনকে ‘হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি’ বা এইচবিএম তৈরিতে সহায়তা করেছে, যা এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্যামসাং। সিএক্সএমটি’ও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
‘ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুসারে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি স্যামসাংয়ের সাবেক একজন সাবেক কর্মকর্তার সঙ্গে চীনা কোম্পানি সিএক্সএমটি’তে যোগ দিয়েছিলেন। এর পর স্যামসাংয়ের ‘ডির্যাম’ তৈরির প্রযুক্তি সিএক্সএমটি’র কাছে পাচার করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে ইয়নহাপ বলেছে, এর বিনিময়ে গত ছয় বছরে চীনা কোম্পানি সিএক্সএমটি’র কাছ থেকে প্রায় প্রায় ১৯.৬ লাখ ডলারের সমপরিমান অর্থ পেয়েছিলেন ওই ব্যক্তি।
রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট প্রসিকিউটর অফিস।
গত বছর সিএক্সএমটি বলেছিল, তারা সাংহাইয়ের বাজারে ১০৬০ কোটি শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে প্রায় ৪৩৩ কোটি ডলার পুঁজি সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
চীনের শীর্ষস্থানীয় এই চিপ নির্মাতা কোম্পানিটি বলেছে, আইপিও থেকে পাওয়া অর্থ তারা উৎপাদন ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নে ব্যয় করবে।
এ জাতীয় আরো খবর..