এলএনজি সংকট

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরছে এশিয়া-ইউরোপ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৩, | ২১:৫০:৩০ |
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় অনেক দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প হিসেবে কয়লার দিকে ঝুঁকছে।

ফলে বিশ্ববাজারে তাপীয় কয়লার চাহিদা ও দাম আবারো বাড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং এর উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও পুনরায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। উড ম্যাকেঞ্জির প্রধান বিশ্লেষক সুস্মিতা বাজরানি বলেন, ‘যখন জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের আঘাত আসে, তখন কয়লা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াই স্বাভাবিক।’

হরমুজ প্রণালি দিয়ে কয়লা খুব একটা পরিবহন করা হয় না। অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় কয়লা রফতানিকারক দেশগুলো এ রুটের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়। তবে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে কয়লার ওপর। মূলত খরচ কমাতে এশিয়া ও ইউরোপের আমদানিকারক অনেক দেশ এখন গ্যাসের পরিবর্তে সাশ্রয়ী জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার শুরু করেছে।

আঞ্চলিক বাজারগুলোর মধ্যে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশ শক্তিশালী রয়েছে। এলএনজির দাম বাড়ায় তাইওয়ান ২ দশমিক ১ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। জাপান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় সচল করার চেষ্টা করছে। চীনে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ৩ শতাংশ আসে গ্যাস থেকে। তাই চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ কয়লা উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছে। ইউরোপের দেশ ইতালিও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করার কথা ভাবছে।

কয়লার এ বাড়তি চাহিদার কারণেই এ পণ্যের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন কয়লার গড় দাম ছিল ১২৬ ডলার। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কয়লা উত্তোলনে ব্যবহৃত ডিজেলের খরচও বেড়ে গেছে। ফলে কয়লা উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন বাড়তি খরচের চাপে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেলের চড়া দাম এবং পরিবহন সমস্যার কারণে বাজারে কয়লার সরবরাহ চাহিদার তুলনায় সীমিত হয়ে পড়তে পারে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটকে আরো দীর্ঘস্থায়ী করবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..