ডেটিং সাইটে ‘সুগার ড্যাডি’ খুঁজছেন ট্রাম্প প্রশাসন কর্মকর্তা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-২৩, | ১৯:৪০:০৭ |
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সন্ত্রাসবিরোধী শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিলাসিতার খরচ জোগাতে ‘সুগার ড্যাডি’ বা বিত্তশালী পুরুষ খোঁজার অভিযোগ উঠেছে। ২৯ বছর বয়সী ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জুলিয়া ভারভারোর বিরুদ্ধে জনৈক এক ব্যক্তি হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইনস্পেক্টর জেনারেলের কাছে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারভারো ডেটিং সাইটের মাধ্যমে বয়স্ক পুরুষদের প্রলুব্ধ করে নিজের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করাতেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে মিডল ইস্ট আই নিশ্চিত করেছে।




অভিযোগকারী ব্যক্তি, যাকে প্রতিবেদনে ‘রবার্ট বি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, দাবি করেছেন যে হিঞ্জ নামক একটি ডেটিং সাইটের মাধ্যমে ভারভারোর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মাত্র তিন মাসের সম্পর্কের মধ্যে ভারভারো তার কাছ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের বিভিন্ন উপহার ও ভ্রমণের খরচ আদায় করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘সিকিং ডটকম’ নামক একটি বিতর্কিত ডেটিং সাইটে ‘আলেসিয়া’ ছদ্মনামে ভারভারোর একটি প্রোফাইল রয়েছে, যেখানে তিনি অত্যন্ত মার্জিত ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। রবার্ট বি-র মতে, বিলাসবহুল পণ্যের প্রতি এই অদম্য আকর্ষণ এবং আর্থিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভারভারোকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রে পরিণত করেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রবার্ট বি ভারভারোর অ্যাপার্টমেন্টের অর্ধেক ভাড়া পরিশোধ করার পাশাপাশি তাকে আরুবা, সুইস আল্পস এবং ইতালির মতো ব্যয়বহুল স্থানে ভ্রমণে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া কার্টিয়ার জুয়েলারি ও দামি হ্যান্ডব্যাগসহ অন্তত ৪০ হাজার ডলারের উপহার তাকে কিনে দিতে হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ভারভারো নিজেকে ‘বস প্রিন্সেস’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং মাদক পরীক্ষা বা নিয়ম-কানুনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করতেন।

এমনকি তারা একসঙ্গে মারিজুয়ানা বা গাঁজা সেবন করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক সেবনের তথ্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা সিআইএ এবং এফবিআইয়ের মতো সংস্থায় চাকরির অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

জুলিয়া ভারভারো অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ডেইলি মেইলকে জানিয়েছেন যে তিনি ভুল কিছু করেননি। তার দাবি, ‘সিকিং ডটকম’-এ তার কোনো প্রোফাইল নেই এবং তার একজন ‘উন্মাদ প্রাক্তন প্রেমিক’ এসব বানোয়াট অভিযোগ ছড়িয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। তবে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে ভারভারোর ইনস্টাগ্রামের ছবির সঙ্গে ওই ডেটিং প্রোফাইলের ছবির মিল রয়েছে কি না।

ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন নানা মহলে সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে নতুন করে সংকটে ফেলেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..