জাপানে করপোরেট দেউলিয়াত্বের হার ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান পণ্যের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির চাপ এর মূল কারণ।
টোকিও শোকো রিসার্চের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে জাপানের ১০৫টি প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
শোকো রিসার্চ বলছে, ২০১১ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও সুনামির পরবর্তী সময়ের পর জাপানে এটিই সর্বোচ্চ দেউলিয়াত্বের রেকর্ড। দেউলিয়া হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বড় একটি অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের। মোট ঘটনার ৭৭ শতাংশ বা ৮ হাজার ৯২টি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় কর্মীর সংখ্যা পাঁচজনেরও কম।
জাপানে সম্প্রতি ৩৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মীদের ধরে রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে মজুরি বাড়াচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলোর নগদ অর্থের প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লোতে টান পড়ছে। তথ্যানুযায়ী, কেবল শ্রমিক সংকটের কারণে দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৪৪২টিতে দাঁড়িয়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড।
এদিকে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওজে) সুদহার বৃদ্ধি করায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোও ঋণের ওপর সুদ বাড়িয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ ঋণ থাকা কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি সুদের বোঝা চেপে বসেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যেখানে গড় সুদহার ছিল দশমিক ৯৯৭ শতাংশ, এ বছরের একই সময় তা বেড়ে ১ দশমিক ২৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের মান কমে যাওয়ায় কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছে উৎপাদন ও সেবা খাত। কেবল পণ্যের দাম বাড়ায় দেউলিয়ার ঘটনা ১৪ শতাংশ বেড়ে ৮০১টিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ খাতে দেউলিয়া হওয়ার হার বেড়েছে ২ শতাংশ।
এ জাতীয় আরো খবর..