দেশের স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে দ্রুত একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে, যা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্র ও কাঠামো নির্ধারণ করবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ মোকাবিলা, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা, এইডস ও যক্ষ্মা প্রতিরোধ, চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং হাসপাতালের অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হবে। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে উভয় পক্ষ কীভাবে একে অপরকে সহায়তা করতে পারে, তা নির্ধারণে কাজ করবে এই যৌথ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এই কমিটি নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সহযোগিতার ধরন, সহায়তার ক্ষেত্র এবং বিনিয়োগ কাঠামো নির্ধারণ করবে।
ইতোমধ্যে প্রায় ৯১ মিলিয়ন ডলারের একটি অর্থায়ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা ঋণের পাশাপাশি অনুদান বা কারিগরি সহায়তা হিসেবেও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে যেসব সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন, সেগুলো ইতোমধ্যে অংশীদারদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আগামী মে মাসের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, এটি মূলত একটি প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা, যা ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনায় রূপ নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, মহামারি মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নজরদারি (সারভেলেন্স) ব্যবস্থা জোরদারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা দিয়েছে। ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মহামারি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনো ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে যৌথভাবে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, আগামী দুই মাস উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে, যা পরবর্তী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ জাতীয় আরো খবর..