যষ্টিমধু বা লিকোরিস সাধারণত গলার খুসখুসে কাশি কমাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু এটি ত্বকের জন্যও অসাধারণ উপকারী একটি পথ্য। আপনার ত্বকের যত্নে যষ্টিমধু অত্যন্ত কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। এতে থাকা গ্লাব্রিডিন নামক উপাদান আপনার ত্বক উজ্জ্বল করতে, কালচে, ব্রণের দাগ এবং রোদে পোড়া ভাব দূর করতে দারুণ কাজ করে। এটি ত্বকের প্রদাহ কমায়, ত্বককে মসৃণ ও হাইড্রেটেড রাখে এবং অ্যান্টি-এজিং বা বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে থাকে।
আর ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদান অনেক সময় দারুণ ফল দেয়।
বিশেষ করে বিভিন্ন ভেষজ উপাদান অত্যন্ত কার্যকরী, যার কারণে অনেক বিউটি ব্র্যান্ডও তাদের প্রোডাক্টে এসব ব্যবহার করে থাকে। তবে বাজারের প্রোডাক্টে রাসায়নিক মেশানো থাকে। তাই খাঁটি উপায়ে ব্যবহার করতে চাইলে ঘরেই ভেষজ দিয়ে রেমেডি তৈরি করা সবচেয়ে ভালো।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, ত্বকের যত্নে যষ্টিমধু যেভাবে ব্যবহার করলে মিলবে ফল—
কেন উপকারী যষ্টিমধু?
আয়ুর্বেদিক উপাদান হিসেবে যষ্টিমধু বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি ত্বকের যত্নে কার্যকর। যাদের মুখে দাগছোপ, রোদে পোড়া ত্বক, ত্বকের রঙ কালচে হয়ে যাওয়া কিংবা মুখ নিষ্প্রভ দেখায়, তাদের জন্য যষ্টিমধু ভীষণ উপকারী। তবে একসঙ্গে অনেক DIY টিপস ব্যবহার না করে সঠিক উপায় বেছে নেওয়া ভালো।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যষ্টিমধু ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এটি মেলানিনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা ত্বকের রঙ নির্ধারণ করে। মেলানিন বেশি হলে ত্বক কালচে দেখা যায়। যষ্টিমধু হাইপারপিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়। এ ছাড়া এতে অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে, যা ত্বকের ফোলা ভাব কমাতেও সাহায্য করে।
যেভাবে যষ্টিমধু ব্যবহার করবেন
ত্বকের যত্নে যষ্টিমধু ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে এর গুঁড়ো তৈরি করতে হবে। বাজারের গুঁড়ো না কিনে আসল যষ্টিমধু কিনে এনে ১-২ দিন রোদে শুকিয়ে নিন। এরপর তা ভেঙে ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন।
ফেস প্যাক তৈরি করার পদ্ধতি
১-২ চামচ যষ্টিমধুর গুঁড়োর সঙ্গে দই মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর যদি মুখে ডার্ক স্পট বেশি থাকে, তাহলে এতে ১-২ চামচ টমেটোর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এই সহজ পদ্ধতিতে ফেসপ্যাক তৈরি হয়ে যাবে। দইও ত্বকের জন্য খুব উপকারী, যা ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল করে।
কখন ব্যবহার করা ভালো?
রাতের স্কিন কেয়ার রুটিনে এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো সময়। প্রথমে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর প্যাক লাগিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে তিনবার। অর্থাৎ একদিন পরপর এটি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আর এই ফেসপ্যাকটি মুখ ও গলায় ভালোভাবে লাগাবেন। অন্তত ২০ মিনিট বা প্রায় শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত রেখে দিন। এরপর ভেজা স্পঞ্জ বা সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ফেসপ্যাক ব্যবহারের পর কখনো মুখে সাবান ব্যবহার করবেন না।
এ জাতীয় আরো খবর..