মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো জাপানও রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ থেকে বাজারে তেল ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। খবর সিএনএন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে দেশটি ৩০ দিনের সমপরিমাণ তেল সরবরাহ শুরু করেছে, যা ধাপে ধাপে মোট ৪৫ দিনের মজুত ছাড়ার পরিকল্পনার অংশ।
এই পদক্ষেপকে জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল মজুত উন্মুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ১৬ মার্চ থেকে বেসরকারি খাতের মজুত থেকেও তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা সামগ্রিক সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাপান তার মোট অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে থাকে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
ফলে রিজার্ভ তেলই এখন ভরসা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে মজুত করা তেল ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে জ্বালানির দাম রেকর্ড ১৯০ ইয়েন প্রতি লিটারে পৌঁছানোর পর জাপান সরকার ভর্তুকি চালু করেছে, যাতে দাম প্রায় ১৭০ ইয়েন প্রতি লিটারে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। একইসঙ্গে সরকার এখনও বাধ্যতামূলক জ্বালানি সাশ্রয় নির্দেশনা জারি না করলেও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় টয়লেট পেপারসহ প্রয়োজনীয় পণ্য অতিরিক্ত মজুত না করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে টোকিও সফরের সময় ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বাইরোল গত বুধবার জানান, প্রয়োজন হলে সংস্থাটি আরও মজুত করা তেল ছাড়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আইইএ-কে অনুরোধ জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তারা যেন অতিরিক্ত তেল ছাড়ার প্রস্তুতি রাখে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের জরুরি মজুত করা তেল ছাড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, স্ট্রাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে এই তেল ছাড়া হয়েছে যাতে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানো যায়।
এ জাতীয় আরো খবর..