কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা: সাইয়েদার শোকে স্তব্ধ পরিবার, নেই ঈদের আনন্দ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৩, | ১৯:২৮:৪৬ |
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৭ বছরের শিশু সাইয়েদার মরদেহ আজ সোমবার সকালে লক্ষ্মীপুরের চর মনসা গ্রামে পৌঁছেছে। বিকেল ৪টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। এই খবরে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যেখানে ঈদের আনন্দ থাকার কথা, সেখানে এখন শুধু কান্নার শব্দ।

শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হন। সেই তালিকায় ছিল নিষ্পাপ শিশু সাইয়েদা। ফরিদপুর থেকে পরিবারের সঙ্গে লক্ষ্মীপুরে ফিরছিল সে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় সেই যাত্রাই হয়ে গেল জীবনের শেষ পথচলা।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ৩টার দিকে মামুন পরিবহনের বাসটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় হঠাৎ ট্রেন এসে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় সাইয়েদাসহ কয়েকজন যাত্রী। গুরুতর আহত হন তার মা রাজিয়া বেগম, বাবা হাফেজ সিরাজুল ইসলাম এবং বড় বোন আফনান (২২)। তারা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। 

স্বজনদের ভাষ্য, এখনো তারা সাইয়েদার শেষ মুখটিও দেখতে পারেননি। দুপুরের পর থেকেই গ্রামের মানুষজন একে একে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাইয়েদাদের বাড়িতে। ছোট্ট শিশুটির নিথর দেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

দাফনের সময় বিকেল ৪টায় নির্ধারণ করা হয়েছে এই খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলে পুরো গ্রাম যেন আরও শোকার্ত হয়ে উঠে।

নিহতের ফুফা আব্দুর রব কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ঈদের পর আমাদের গ্রামে মেয়েরা কত আনন্দ করে। সাইয়েদাও নতুন কাপড় পরে সবার সঙ্গে ঘুরবে— এই ছিল আশা। কিন্তু একটা দুর্ঘটনা সব শেষ করে দিল।

চাচী সাহিনুর সুলতানা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, এক বছর আগেই অসুস্থ হয়ে তাদের বড় ছেলেটা মারা গেছে। এখন আবার সাইয়েদা... এই পরিবারটা আর কত শোক সইবে? আল্লাহও যেন পরীক্ষা নিচ্ছেন।

আত্মীয় আশরাফ আলী বলেন, আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করি—এই পরিবারটার পাশে দাঁড়ান। তারা একের পর এক শোকে ভেঙে পড়েছে। তাদের এখন সহায়তা খুব দরকার।

দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, রেলগেট বন্ধ না থাকায় বাসটি লাইনে উঠে পড়ে। আবার ফায়ার সার্ভিস বলছে, বাসচালকের অসাবধানতাও বড় কারণ। ঘটনার পর দুই গেটম্যান মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আহত যাত্রী তফাজ্জল হোসেন সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বলেন, হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। চোখ খুলে দেখি চারদিকে রক্ত আর মানুষের চিৎকার। কিছুই বুঝে ওঠার আগেই আমাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুরো চর মনসা গ্রাম এক গভীর শোকের আবরণে ঢেকে গেছে। একটি প্রাণহীন দেহ শুধু একটি পরিবারকেই ভেঙে দেয়নি—নিভিয়ে দিয়েছে একটি গ্রামের ঈদের আনন্দও।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..