পানির নিচে ইরানের ‘অদৃশ্য এক শক্তি’ বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের হিসাব!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৩, | ১৩:৪১:১৪ |
জ্বালানির পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিকপথ হরমুজ প্রণালিতে আকাশে গর্জন তুলছে মার্কিন যুদ্ধবিমান। কিন্তু পানির নিচে ইরানের অদৃশ্য এক শক্তি নীরবে বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের হিসাব। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহকে জিম্মি করতে ক্ষুদ্র সাবমেরিন, মাইন আর মিসাইল হয়ে উঠেছে তেহরানের কৌশল।

হরমুজ প্রণালিতে এ টেন যুদ্ধবিমান ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দিয়ে ইরানের স্পিডবোট ও অস্ত্রঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করছে যুক্তরাষ্ট্র। তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ করে গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেন পুনরায় চালু করাই এর উদ্দেশ্য। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল হুমকি আকাশে নয় বরং পানির নিচে লুকিয়ে থাকা ইরানের ক্ষুদ্র সাবমেরিনে।

ইরানের ঘাদির-ক্লাস মিজেট সাবমেরিন মাত্র ২৯ মিটার লম্বা, কিন্তু অগভীর পানিতে সহজে লুকিয়ে থাকতে সক্ষম। হরমুজ প্রণালির গড় গভীরতা কম হওয়ায় এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এই সাবমেরিন থেকে উচ্চগতির টর্পেডো ছোড়া এবং রাতের অন্ধকারে গোপনে মাইন পাতা দুটোই সম্ভব।

এছাড়া ইরানের কাছে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাইন। এসব মাইন শিপিং লেন বন্ধ করে দিতে পারে, যা পরিষ্কার করতে সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধ নয় বরং এই মাইন পাতা কৌশলই বৈশ্বিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

ইরানের ট্রাক-চালিত অ্যান্টি-শিপ মিসাইল যেমন নূর, কাদের বা আবু মাহদি শত শত মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাবমেরিন থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণের সক্ষমতা, যা নজরদারি ও হামলার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে উপকূল থেকে দূরে থাকা জাহাজও এখন ঝুঁকির বাইরে নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের কৌশল সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনী ধ্বংস করা নয়, বরং হরমুজ প্রণালি অচল করে দেয়া। ক্ষুদ্র সাবমেরিন, স্পিডবোট, মিসাইল ও মাইনের সমন্বিত ব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে এক 'চোকপয়েন্ট যুদ্ধ'।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..