সর্বশেষ :
ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে কর্মব্যস্ত মানুষ, দেরিতে ট্রেন ছাড়ার অভিযোগ ইরান যুদ্ধ: জরুরি ‘কোবরা’ বৈঠক ডেকেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতি বড় হুমকির মুখে: আইইএ প্রধান বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম, চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে হতাশা থেকে হুমকি দিচ্ছে তারা : ইরানের প্রেসিডেন্ট ট্যাঙ্কার যুদ্ধের দুঃস্বপ্ন, হরমুজে ফের ডুববে মার্কিন আধিপত্য? সংঘাতমুখী অবস্থান নিচ্ছে ইরানের নতুন নেতৃত্ব তিন সপ্তাহের হামলায় যা বোঝা গেল, আসলে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল? ইরান লন্ডনে হামলা চালাতে সক্ষম, ইসরায়েলের এমন দাবি নাকচ করল যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

৬ শর্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় রাজি যুক্তরাষ্ট্র

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৩, | ১০:৫০:৩৯ |
চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে ইরান যুদ্ধ। যদিও এরইমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস প্রশাসন যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার রূপ কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। 

একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজ।

গত শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামাজিক মাধ্যমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি আমরা। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ সংঘাতের শিগগিরই অবসান হতে পারে-ট্রাম্পের এ বার্তা এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পরিণতির বিষয়ে সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ যুদ্ধ চলতে পারে। এ সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ভিত্তি তৈরি করতে চান।

সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি।

তবে মিশর, কাতার এবং যুক্তরাজ্য দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা ও আরও দুইটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পাঠানোর বার্তায় মিশর ও কাতার জানিয়েছে, ইরান আলোচনায় আগ্রহী, তবে কঠোর শর্তে। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, ভবিষ্যতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না করার নিশ্চয়তা এবং ক্ষতিপূরণ।

অ্যাক্সিওসকে মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ছয় শর্তে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় রাজি যুক্তরাষ্ট্র। শর্তগুলো হচ্ছে–আগামী পাঁচ বছরের জন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি না রাখা। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ, ইসফাহান এবং ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করা।

পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিতে সক্ষম সেন্ট্রিফিউজ ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারি নিশ্চিত করা। আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ১ হাজারের বেশি হবে না। এছাড়া লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি বা গাজায় হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করা।

এদিকে ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য ছয় দফা শর্ত দিয়েছে এবং জানিয়েছে, শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়—এমনটাই দাবি করেছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

ইরানের দেয়া ছয়টি প্রধান শর্ত হলো- এক. ভবিষ্যতে যুদ্ধ যেন আর না হয়, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা, দুই. মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা, তিন. ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, চার. পুরো অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করা, পাঁচ. হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি এবং ছয়. ইরানবিরোধী হিসেবে বিবেচিত কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা ও প্রত্যর্পণ করা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..