ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ঈদের নামাজে মুসল্লিদের ঢল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২১, | ১৬:০২:১২ |

নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে ঈদের জামাতে লাখো মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের বৃহত্তম এই ঈদ জামাতে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে নেয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তবে ঈদের আগের রাতে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় জেলার পাড়া-মহল্লার মসজিদ ও ছোট ছোট ঈদগাহ মাঠেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঈদের দিন শনিবার সকাল ৯টায় লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে এই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকাল থেকেই মুসল্লিরা মাঠে আসতে শুরু করেন এবং একসময় তা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। দিনাজপুর সদর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের কয়েক জেলা থেকে মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।

ঈদ জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় ইমাম সমিতি দিনাজপুরের সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম উম্মাহসহ ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদ ও আহতদের জন্য শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদ জামাত শুরুর আগে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা জজ মো. আলমগীর হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ জামাতে অংশ নেন।

সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। এবার মাঠে কিছু ত্রুটি ছিল, ভবিষ্যতে আরও সুন্দর পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। সবাইকে ঈদ মোবারক।

জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রমজানে অর্জিত তাকওয়া জীবনে ধারণ করতে হবে। লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে সফলভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে, দেশের বৃহৎ এই জামাতে অংশ নিতে পেরে মুসল্লিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, সকাল ৯টায় জামাত হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে এসে অংশ নেয়া সহজ হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে আসা মুসল্লি ও স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল ওহাব বলেন, প্রতিবার শোলাকিয়ায় নামাজ পড়ি। দিনাজপুরের এই বড় ঈদগাহ সম্পর্কে অনেক শুনেছি। তাই এবার এখানে নামাজ আদায় করতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।

নীলফামারী থেকে আসা রংপুরের একটি হিমাগারের ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার জানান, এবার নিয়ে সাতবার এখানে নামাজ আদায় করলাম। আগের চেয়ে এবার ব্যবস্থাপনা আরও ভালো ছিল। এত বড় জামাতে নামাজ আদায়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠে শৌচাগার, ওজুর ব্যবস্থা এবং মেডিকেল টিম রাখা হয়। পুরো জামাতকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওয়াচ টাওয়ার, চেকপোস্ট, ড্রোন ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি ছিল গোয়েন্দা তৎপরতা। মাঠের আশপাশে র‌্যাব, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ২০১৭ সালে নির্মিত এই ঈদগাহে রয়েছে ৫২টি গম্বুজ। এর দুই পাশে ৬০ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার এবং মাঝখানে ৫০ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার রয়েছে। মেহরাবের গম্বুজের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এছাড়া ৫১৬ ফুট দৈর্ঘ্যে ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনারটি সিরামিক ইট দিয়ে আচ্ছাদিত। দর্শনীয় এই স্থাপনাটি পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..