ঈদ। উৎসব ও আনন্দের দিন। মুসলমানের অবিস্মরণীয় স্মৃতি অংকনের মহাদিন। মুমিনের মাঝে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিন আসে বছরে- ঈদের আনন্দ নিয়ে।
এই দু'ঈদ দৃঢ় ও মজবুত করে পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। দূর করে হিংসার কালো মেঘ। আকাশ বাতাস মাতিয়ে তুলে উৎসবের গণজোয়ার। সন্ধ্যা নামতেই পশ্চিমাকাশে মৃধুময় আলো ছড়িয়ে উদিত হয় ঈদের নতুন চাঁদ। ঠোঁটে তার ফুটে থাকে মিষ্টি হাসি। শব্দহীন ভাষায় মানুষকে বলে– আজ তোমাদের মাঝে উদিত হলো উৎসবের শ্রেষ্ঠ দিন। ঈদ উদযাপন করো মনের আনন্দে। ভুলে যাও হৃদয় আকাশে জমা হিংসা বিদ্বেষের কালো মেঘের কথা।
ঈদের সকাল। ভোর জাগে মুয়াজ্জিননের কোকিল কন্ঠে আযানের ধ্বনিতে। উদিত হয় ভোরের দীপ্ত সূর্য। সূর্য উদয়নের হাত ধরে রঙিলা জামা গায়ে জড়িয়ে নবাবের ঢংয়ে কিশোর,তরুণ,বৃদ্ধ সবাই হাঁটে ঈদগাহের উদ্দেশে– ঈদগাহে মিলিত হয় চেনা-অচেনা কত মানুষ! দেখা হয় অনেকের। কথা হয় মুখেমুখে। ভালোবা, ভালো লাগার শিশির জমে অন্তরে। এই বিশেষ দিনে ঈদের নামাজ একত্রে আদায় করে মুসলিমরা।
ধ্বনি-গরিবের মাঝে ভেদাভেদের নির্মিত নীল প্রাচীর ভেঙে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করবে। ফকিরের সুরতে স্রস্টার দুয়ারে তুলে ধরে নমনীয়তার কুজুহাত। ঈদের নামাজ আদায় করে সূর্যের তাপ উপেক্ষা করে। খোলা আকাশের ছাঁয়ায়। বিস্তীর্ণ মাঠে। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সৌন্দর্যই সৃষ্টি করেছেন মদিনার মাটিতে। ঈদের নামাজ পড়েছেন মসজিদের বাইরে। খোলা আকাশের নিচে। মরুর বুকে। সবচেয়ে বড় জামাত তো ছিলো রাসুলের ঈদের জামাত। রাসুলের সেই জামাতে মুসলমানরা স্বাচ্ছন্দে অংশ গ্রহণ করতো।
চতুর্দিকে ছিলোনা কোন বেষ্টনী। খোলামেলা মাঠ। ঘরের মহিলারাও দেখতে পেত রাসুলের জামাতের সুন্দর ও মুগ্ধকর সেই দৃশ্য। দূর থেকে ছুটে আসতো মদিনার শিশুরা। সেযুগে ঈদের জামাতে মুসলমানদের ঐক্য ও আনন্দ প্রকাশ পেত ষোলো আনায়।
মরুর বুকে নবীজির ঈদের জামাত ছিলো ভ্রাতৃত্ব ও আনন্দে ভরা। মদিনার রীতিতে বাংলাদেশের মাটিতেও কয়েক গাঁয়ের মানুষের সম্মিলিত ঈদের বড় জামাত হয়ে আসছিল যুগ যুগ ধরে। সময়ের ঘূর্ণায়নে উঠে গেছে নববী যুগের বড় জামাতের প্রচলনও। বর্তমান সময়ে গ্রামেগঞ্জে তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ বিষয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলেই হচ্ছে বিভক্ত। এই বিভক্তির লেশ গড়ায় নামাজের কাতারে।
ঈদগাহে। কেউ কেউ নিজ অনুসারীদের নিয়ে কায়েম করেন আলাদা জামাত। ছোট্ট আঙিনায়। হিংসার বসবতী ও ব্যক্তিত্বের প্রভাবে একই গ্রামে হচ্ছে ছোট ছোট একাধিক জামাত। বিলুপ্ত হচ্ছে নববী যুগের ঈদ সৌন্দর্য। আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হওয়ার বিপরীতে পরস্পরের মাঝে বাড়ছে কেবল বিভেদ আর সংঘাত। মুসলমানের অন্তরে প্রতিহিংসার বীজ লালিত হচ্ছে বছরের পর বছর।
আসুন! সকল মতবিরোধের কবর রচনা করে ঈদের জামাত হোক সকল শ্রেণীর মানুষকে নিয়ে। একই গ্রামে ছোট ছোট একাধিক জামাত আর নয়। ঈদের নামাজ হোক বড় জামাতে। খোলা মাঠে। সবাইকে নিয়ে। ভ্রাতৃত্ব ও ধর্মের মেলবন্ধন ছড়িয়ে পড়ুক হৃদয় থেকে হৃদয়ে। হাসুক মুসলিম শিশুরা। ঐক্যের মশাল জ্বলুক দিগ থেকে দিগন্তে।
এ জাতীয় আরো খবর..