সর্বশেষ :
শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: শিক্ষামন্ত্রী সাশ্রয়ী দামে আসছে ল্যান্ড রোভার ডিফেন্ডার স্পোর্ট যুদ্ধের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইরানিদের সংহতি, জমায়েতে বিস্ফোরণ নিখোঁজ যুবকের মরদেহ মিলল প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে সাভারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ পাহারা দিতে ‘প্রস্তুত নয়’ মার্কিন নৌবাহিনী রুশ তেল ছাড়া বিশ্ব জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল থাকা অসম্ভব: রাশিয়া ইরানে ক্ষমতাসীনদের হত্যা করা ‘খুবই সম্মানজনক’ : ট্রাম্প প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হান্ড্রেডে মুস্তাফিজ, বেথেল-ব্রুকসসহ সতীর্থ যারা ‘ইরানের নারী ফুটবলাররা সত্যিকারের বীর’

যুদ্ধের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইরানিদের সংহতি, জমায়েতে বিস্ফোরণ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৩, | ১৯:৪০:৩২ |
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে আয়োজিত আল-কুদস দিবসের মিছিলের আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ইরানের রাজধানী তেহরানে। এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। হাজারো মানুষ এদিন বার্ষিক এ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। একই সময়ে দেশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছিল, যা যুদ্ধের ১৪তম দিনে গড়িয়েছে।


আজ শুক্রবার দুপুরে তেহরানের একটি চত্বরে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে আল-কুদস দিবস উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

তেহরানের ফেরদৌসি স্কয়ারে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এর কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েল ওই এলাকা খালি করার হুমকি দিয়েছিল, কারণ তারা সেখানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার ফলে সৃষ্ট শার্পনেলের আঘাতে এক নারী নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, তেহরানে বিক্ষোভকারীদের এক সমাবেশস্থলের মাত্র কয়েক মিটার দূরে একটি বিমান হামলা চালানো হয়। তবে হামলাটি ঠিক কোথায় হয়েছে বা এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলমান মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মধ্যেও আজ তেহরান, ইসফাহান, কেরমানশাহ-সহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বিপুল মানুষ সমাবেশে অংশ নেন।

আল-কুদস দিবস হলো একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক দিবস, যেখানে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানানো এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরোধিতা করা হয়। ‘আল-কুদস’ হলো জেরুজালেমের আরবি নাম।

তেহরানের সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে দেখা গেছে। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানিও।

লারিজানি দাবি করেন, ভয় থেকেই ইসরায়েল আল-কুদস দিবসে বোমা ফেলছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝতে পারছেন না যে ইরানিরা শক্তিশালী, সচেতন ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ একটি জাতি।

ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এবং ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রীসহ সরকারের আরও কয়েকজন সদস্যকেও বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে।

শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা “ইসরায়েলের মৃত্যু হোক” এবং “আমেরিকার মৃত্যু হোক” স্লোগান দেন। তারা ইরানের পতাকা এবং ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ছবি বহন করছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানান।

বিক্ষোভকারীরা জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্লোগানসম্বলিত ব্যানার বহন করছিলেন।

যুদ্ধের মধ্যেও জনগণকে আল-কুদস দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এক্সে পোস্ট করে ইরানিদের আহ্বান জানান— “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যায় রাস্তায় নেমে ইরানের শত্রুদের হতাশ করে দিন।”

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার ইরানে আল-কুদস দিবস পালন করা হয়। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এ দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..