ভয়াবহ হামলার মুখে ইরান: ৩১ প্রদেশের ২০টিই ক্ষতিগ্রস্ত!

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০২-২৮, | ২২:২৩:১৫ |
ইরানের ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শুরু হওয়া এই হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর এএফপির। ভয়াবহ হামলার মুখে ইরান: ৩১ প্রদেশের ২০টিই ক্ষতিগ্রস্ত!

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র নিশ্চিত করেছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ইরানের মিনাব কাউন্টিতে। সেখানকার গভর্নর জানিয়েছেন, একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় লক্ষ্য করে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই ৫৩ জন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই হামলায় আহত হয়েছে আরও অন্তত ৬০ জন। রক্তভেজা বইখাতা আর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শিশুদের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে জানিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি স্থাপনা এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি বলেন, ‘যেসব স্থান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেই সব স্থাপনাকেই লক্ষ্যবস্তু করছে।’


আরাঘচি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ইরান কেবল ইসরাইল নয়, বরং হামলায় সহায়তাকারী মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি প্রদেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলোতে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ ঘটেছে। উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন, তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলা ‘ছায়াযুদ্ধ’ আজ থেকে সরাসরি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের রূপ নিল। শনিবারের এই বড় ধরনের হামলার পর ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এর ‘কঠোর জবাব’ দেবে। এএফপির খবর অনুযায়ী, তেহরানের এই হুংকরের পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্র দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..