বাংলা রকসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তর একুশে পদক পাচ্ছেন কিংবদন্তি ব্যান্ডতারকা আইয়ুব বাচ্চু। মৃত্যুর সাত বছর পর দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পাওয়ার ঘোষণার পর তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা আবেগে ভেঙে পড়েন।
আইয়ুব বাচ্চু শুধু রকসংগীতে নয়, বাংলা সংগীতের ধারায় এক অনন্য স্থান দখল করে থাকা একজন শিল্পী ছিলেন। তার মিউজিক, গিটার বাজানো শৈলী এবং ব্যান্ডভিত্তিক কাজ বাংলা সংগীতের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
এই পদক তার সেই অবদানের একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি।
একুশে পদকের জন্য আইয়ুব বাচ্চু, অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা, সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ মোট ১০ জন মনোনীত হওয়ার তথ্য প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন চন্দনা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘খবরটা শোনার পর আমার চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। কারণ যার নেওয়ার জিনিস, তিনি তো আর নেই। নিজের হাতে সম্মাননাটা নিতে পারা একটা বিশাল ব্যাপার। দোয়া করবেন ওর জন্য—যেন ওপর থেকে দেখতে পান।’
একুশে পদক আইয়ুব বাচ্চুর প্রাপ্যই ছিল। তবে জীবদ্দশায় সেই পদক নিজ হাতে না নিতে পারার আক্ষেপ রয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
চন্দনা বলেন, ‘শিল্পীরা নিজের হাতে সম্মাননাটা নিতে পারলে সবচেয়ে বেশি খুশি হন। বাচ্চু হয়তো দুর্ভাগা মানুষ, তাই সেটা পাননি। তবে মৃত্যুর পর হলেও তাকে সম্মানিত করায় সরকারকে অনেক ধন্যবাদ।’
জীবদ্দশায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর কিছু আক্ষেপ ছিল—এ কথাও স্বীকার করেন চন্দনা। তবে সে প্রসঙ্গে আর বিস্তারিত কথা বলতে চাননি তিনি।
শুধু বলেন, ‘একটি পদক একজন শিল্পীকে আরো দুই কদম এগিয়ে দেয়। ওরও আক্ষেপ ছিল, মাঝে মাঝে এসব নিয়ে বলত। কিন্তু এখন সেসব নিয়ে কথা বলতে চাই না। চলে যাওয়ার পর হলেও পেয়েছে—অনেকে তো সেটুকুও পায় না।’
এ জাতীয় আরো খবর..