হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটকের চেষ্টা করেছে ইরানের ছয়টি গানবোট। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় ট্যাংকারটি নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সমুদ্রের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক মঙ্গলবার তাদের গ্রাহকদের জানায়, ইরানি নৌযানগুলোতে .৫০ ক্যালিবার মেশিনগান ছিল।
তারা ট্যাংকারটিকে ইঞ্জিন বন্ধ করে তল্লাশির জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু ট্যাংকারটি গতি বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি মার্কিন নৌযানের পাহারায় নিরাপদে পৌঁছায়।
ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো সামরিক হামলা হলে তা পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে।
একই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরে শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন।
ইসরায়েলে আলোচনার মূল বিষয় থাকবে ইরান ইস্যু। এর আগে সপ্তাহান্তে জামির ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ আলোচনা করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার আশা, একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ সমঝোতা সম্ভব হবে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।
’ তবে তিনি জানান, ‘আমাদের বড় ও শক্তিশালী জাহাজ ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে। আমি আশা করি তারা এমন কিছুতে সম্মত হবে, যা গ্রহণযোগ্য।’
ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি চুক্তি করা সম্ভব, যাতে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তবে ইরান তা করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।’
এ জাতীয় আরো খবর..