বার্সেলোনার সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে আবারও তীব্র কথার লড়াই উসকে দিয়েছেন। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে শেষ মুহূর্তে পাওয়া সেই বিতর্কিত পেনাল্টি, যেটিকে গোলে পরিণত করে কিলিয়ান এমবাপ্পে লস ব্লাঙ্কোদের কষ্টার্জিত জয় এনে দেন-তা নিয়ে প্রকাশ্যে উপহাস করেছেন তিনি। লাপোর্তাকে ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে খোলাখুলি ঠাট্টা করতে দেখা যায় এবং ঘটনাটিকে তিনি সরাসরি 'ডাইভ' বলে আখ্যা দেন।
লা লিগায় ফের বিতর্ক পেনাল্টি নিয়ে। রায়ো ভায়োকানোর বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে রিয়াল মাদ্রিদের জয়সূচক পেনাল্টি নিয়ে উপহাস করেছেন বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তা। তার ইঙ্গিত, আলভারো আরবেলোয়ার দল অনুকূল রেফারিংয়ের সুবিধা পাচ্ছে। দুই ক্লাবের উত্তেজনা যখন চরমে তখন এমন ইঙ্গিত দিয়ে তা আরও উসকে দিয়েছেন বার্সার এই প্রেসিডেন্ট।
স্পেনের দুই ফুটবল পরাশক্তির মধ্যে সমঝোতার যে ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল, তা গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রিয়ালের নাটকীয় ২-১ গোলের জয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় থাকার পর যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পায় রিয়াল। ব্রাহিম দিয়াজ বক্সে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
এমবাপ্পে স্পট-কিকটি গোলে রূপান্তর করে নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এনে দেন। তবে ক্যাম্প ন্যুতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিদ্রূপ শুরু হয়। পরে সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপে লাপোর্তাকে ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যেই ঠাট্টা করতে শোনা যায়।
মাদ্রিদের নির্ণায়ক পেনাল্টি নিয়ে মতামত জানতে চাইলে বার্সা প্রধান হাসতে হাসতে শুধু এক শব্দ বলেন, 'ডাইভ'।
এই ব্যঙ্গের পেছনের প্রেক্ষাপটও স্পষ্ট। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্সে মোটেও ছন্দ ছিল না। পুরো ম্যাচজুড়ে রায়ো ভায়েকানো তাদের বিখ্যাত প্রতিবেশীদের চাপে ফেলেছিল। মনে হচ্ছিল, গত মাসে বরখাস্ত হওয়া শাবি আলোনসোর জায়গায় আসা আরবেলোয়া লিগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারাতে যাচ্ছেন।
রায়োর দৃঢ় রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল মাদ্রিদ। ড্র হলে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার জন্য সেটা হতো বড় সুবিধা, তাতে তাদের লিড আরও বাড়াতে পারত।
কিন্তু দিয়াজের সেই মুহূর্ত ম্যাচের চেহারা বদলে দেয়। মরোক্কান এই তারকার বক্সে ঢুকে পড়া ও পড়ে যাওয়ার ঘটনায় রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন, যা ভিএআর বাতিল করেনি। এমবাপের ঠান্ডা মাথার ফিনিশ মাদ্রিদকে রক্ষা করলেও, তাতে বার্সেলোনার হতাশা বাড়াই স্বাভাবিক।
এই খোঁচা দুই বোর্ডরুমের দ্রুত অবনতিশীল সম্পর্কের আরেকটি পর্ব মাত্র। জানুয়ারির শুরুতে স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের পর থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক কার্যত ভেঙে পড়ে।
সেই ম্যাচে বার্সেলোনা ৩-২ ব্যবধানে জয় পায়, যার ফলেই আলোনসো চাকরি হারান। ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ আছে, পুরস্কার বিতরণীর সময় এমবাপ্পে সতীর্থদের বিজয়ীদের জন্য প্রথাগত গার্ড অব অনার উপেক্ষা করতে বলেন, যা কাতালান প্রতিনিধিদের কাছে শিষ্টাচারের অভাব হিসেবে ধরা পড়ে।
সৌদি আরবে সেই ফাইনালের পর থেকে লাপোর্তা ও মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের মধ্যে তথাকথিত 'ঠান্ডা যুদ্ধ' এখন প্রকাশ্য বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি নির্দিষ্ট ম্যাচ-ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যঙ্গ করা প্রমাণ করে, সংযমের কোনো জায়গা নেই।
ব্যক্তিগত বিরোধের বাইরেও এই মন্তব্য কৌশলগত। লিগের চূড়ান্ত পর্যায়ে মানসিক লড়াইও শারীরিক লড়াইয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। পেনাল্টির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে বার্সা শিবির একটি বয়ান তৈরি করতে চাইছে-আরবেলোয়ার দল লিগের ম্যানেজমেন্টের প্রিয়পাত্র।
এ জাতীয় আরো খবর..