বার্বির রাজত্বে ফের পা রাখল জাপানি খেলনা প্রস্তুতকারক কোম্পানি টমি।
নিজেদের বিখ্যাত ‘লিকা-চ্যান’ পুতুল উত্তর আমেরিকার বাজারে নতুন করে আনছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের মধ্যেই এ অঞ্চলের এক হাজার দোকানে পুতুলটি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত মার্চে লিকা-চ্যান পুতুল পুনরায় চালু হয়। আগামী সেপ্টেম্বরে কানাডায় এর বিক্রি শুরু হবে। উত্তর আমেরিকার বাজারে কোম্পানির মূল লক্ষ্য হলো প্রাপ্তবয়স্ক ক্রেতা বা সংগ্রাহকরা। ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের মধ্যে মোট বিক্রির ১০ শতাংশ বিদেশী বাজার থেকে অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে টমি।
যুক্তরাষ্ট্রের গেমস্টপসহ বিভিন্ন ভিডিও গেম ও খেলনা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মার্চ থেকে লিকা-চ্যান বিক্রি শুরু করেছে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শখের সামগ্রী ও বিশেষায়িত দোকানগুলোয় মনোযোগ দিতে চায় টমি।
এর আগে ১৯৮১ সালে উত্তর আমেরিকার বাজারে ব্যবসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। ওই সময় বার্বি বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণে তৈরি হওয়ায় এর উৎপাদন খরচ ও দাম কম ছিল। সে তুলনায় লিকা-চ্যানের দাম ছিল বেশি।
এবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ধরতে জাপানি অন্যান্য জনপ্রিয় কনটেন্টের সঙ্গে জোট বাঁধছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে রয়েছে ভার্চুয়াল পপ তারকা ‘হাতসুনে মিকু’ ও মাঙ্গা সিরিজ ‘ফ্রিরেন: বিয়ন্ড জার্নিস এন্ড’। এছাড়া জাপানি ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও স্কুলের ইউনিফর্ম পরা পুতুলও তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। উত্তর আমেরিকার জন্য বিশেষ ডিজাইনের পুতুল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে টমির।
চলতি মাসের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয় ‘অ্যানিমে এক্সপো’। এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় জাপানি পপ কালচার উৎসব। সেখানে প্রদর্শন করা হয় লিকা-চ্যান পুতুল।
খেলনা খাতের মাসিক সাময়িকী টয় জার্নালের প্রধান সম্পাদক দাইসুকে ফুজিত বলেন, ‘স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযোগী জাপানি কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। ফলে বার্বির পাশাপাশি জাপানি ধাঁচের “কিউট” সংস্কৃতির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।’
লিকা-চ্যান পুতুল এতদিন প্রধানত জাপানের বাজারের জন্যই তৈরি হতো। তবে জাপানে জন্মহার কমতে থাকায় টমি এখন বিকল্প বাজারের সন্ধান করছে। পুতুলের সূক্ষ্ম সাজসজ্জা ও পোশাকের বৈচিত্র্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের মন জয় করবে বলে আশা করছে কোম্পানিটি।
টয় অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে খেলনা বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৩০ কোটি ডলারের দাড়িয়েছে, আগের বছরের তুলনায় যা ৬ শতাংশ বেশি। গত বছর মোট বিক্রির প্রায় এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ কিনেছেন প্রাপ্তবয়স্করা। ২০২১ সালে এ হার ছিল ১০ শতাংশ।
টমির মোট বিক্রির ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ আসে বিদেশী বাজার থেকে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে ‘টমিকা’ মিনি কার ও ‘বেব্লেড’ লাটিম।
খবর নিক্কেই এশিয়া
এ জাতীয় আরো খবর..