✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৬, | ১৩:৪৫:২৪ |আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সময় যেন থমকে গিয়েছিল ৫৫ মিনিটে। ইংল্যান্ড এগিয়ে যেতেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। তবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যে শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই ছাড়ে না, সেটিই আবারও প্রমাণ করল লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
এই জয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির দুটি অ্যাসিস্ট ছিল ম্যাচে সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। তবে শুধু মেসিই নন, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও বদলি নেমে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া লাউতারো মার্তিনেজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে মাঠে নেমে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা কে কেমন পারফর্ম করলেন? ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘গোল ডটকম’-এর ম্যাচ রেটিংয়ের ভিত্তিতে দেখে নেওয়া যাক আলবিসেলেস্তেদের পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ-
_1784186353.jpg)
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (৬/১০): ইংল্যান্ডের গোলটি ঠেকানোর সুযোগ খুব একটা ছিল না। বাকি সময়ে বড় কোনো পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।
নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (৬/১০): বাম প্রান্তে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স। প্রতিপক্ষের আক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (৬/১০): শুরুতেই হলুদ কার্ড দেখলেও পরে নিজেকে সামলে নেন। তবে ইংল্যান্ডের গোলের সময় তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে।
ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (৭/১০): রক্ষণভাগে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স। শারীরিক লড়াই ও ট্যাকলে ছিলেন দারুণ দৃঢ়।
নাহুয়েল মলিনা (৪/১০): আর্জেন্টিনার সবচেয়ে দুর্বল পারফর্মার। তার দিক দিয়েই সবচেয়ে বেশি আক্রমণ চালিয়েছে ইংল্যান্ড। গোলের সময়ও অবস্থানগত ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো।
_1784186382.jpg)
এনজো ফার্নান্দেজ (৮/১০): দীর্ঘ সময় নিস্তেজ থাকলেও শেষ দিকে এক মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট থেকেই আসে সমতায় ফেরার গোল।
অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (৭/১০): দুর্ভাগ্য দুইবার। তার দুটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয়বার ফিরে আসা বল থেকেই তৈরি হয় জয়সূচক গোলের আক্রমণ।
লিয়ান্দ্রো পারেদেস (৬/১০): প্রথমার্ধে মাঝমাঠে ভারসাম্য ধরে রেখেছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে তুলে নেন স্কালোনি।
_1784186397.jpg)
জুলিয়ানো সিমিওনে (৫/১০): বল দৌড় ও প্রেসিংয়ে কার্যকর ছিলেন। তবে আক্রমণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পারেননি।
হুলিয়ান আলভারেজ (৫/১০): পরিশ্রমে কমতি ছিল না। কিন্তু গোলের সামনে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখাতে পারেননি।
লিওনেল মেসি (৮/১০): গোল না পেলেও ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন। দুটি অ্যাসিস্টে দলের জয় নিশ্চিত করেন। যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের জন্য বাড়ানো নিখুঁত ক্রসটি ছিল বিশ্বমানের।
অল্প সময় মাঠে থেকেও জয়সূচক গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন লাউতারো মার্তিনেস। সময় কম খেললেও প্রভাব ছিল অসাধারণ।
এদিকে ইংল্যান্ড বধের ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিলেন লিওনেল স্কালোনি। পিছিয়ে পড়ার পর কৌশলগত পরিবর্তন এবং সঠিক সময়ে বদলি নামিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে দেন। টমাস টুখেলের সঙ্গে কৌশলের লড়াইয়ে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ।