মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৫, | ১১:৩২:৫৪ |

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাকে নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী—নিউইয়র্ক টাইমসের এমন দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। মঙ্গলবার আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে আহমাদিনেজাদের কার্যালয় অভিযোগ করে, জনমত বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই নিউইয়র্ক টাইমস এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন—এমন দাবিও নাকচ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গৃহবন্দিত্বের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মনগড়া এবং পত্রিকাটির অন্যান্য দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্যই এটি সাজানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ‘নিউইয়র্ক টাইমস প্রচারিত সম্পূর্ণ মিথ্যা এসব অভিযোগ আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’

এর আগে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস দাবি করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। এমনকি ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবেও তাকে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলার পর দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ ছিল এই উদ্যোগ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের আবাসন ও বিদেশ সফরের জন্য অর্থায়ন করেছে এবং বুদাপেস্ট সফরসহ একাধিকবার বিদেশে তার সঙ্গে ইসরায়েলি এজেন্টদের বৈঠক হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত শুরুর দিকে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। সে সময় ইরান সরকারকে উৎখাত করে আহমাদিনেজাদকে নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। এতে তার দেহরক্ষীদের ব্যবহৃত একটি ভবন ও সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, হামলার পর একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে তাকে নিয়ে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, গাড়িটি মোসাদের এজেন্টরাই চালাচ্ছিল।

উল্লেখ্য, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গত সপ্তাহে তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেন, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি ছিল। সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..