✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১৫, | ১১:২৫:১৪ |বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। এই জয়ের ফলে শুধু শিরোপার লড়াইয়ে ওঠাই নয়, ফাইনালের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাড়তি সুবিধাও পেয়েছে ইউরোপের দলটি।
সেমিফাইনালে মিকেল ওইয়ারসাবাল ও পেদ্রো পরোর গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা। এবার তাদের লক্ষ্য ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুটও জিতে নেওয়া।
ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনা।
তবে ফাইনালের আগেই স্পেনের পক্ষে একটি বড় বিষয় কাজ করছে। কারণ স্পেন প্রথম সেমিফাইনাল খেলেছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ফলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তুলনায় স্পেন এক দিন বেশি বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বড় টুর্নামেন্টের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে অতিরিক্ত বিশ্রাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ ভ্রমণ, টানা ম্যাচ এবং গরম আবহাওয়ার কারণে এই বাড়তি সময় আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে।
একটি গবেষণাতেও এই বিষয়টির প্রমাণ মিলেছে। সেখানে গত ১৪টি বিশ্বকাপ ও ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের আসরের ফাইনালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, ১৪টির মধ্যে ১৩ বারই যে দলটি ফাইনালের আগে বেশি বিশ্রাম পেয়েছে, শেষ পর্যন্ত তারাই শিরোপা জিতেছে।
এই পরিসংখ্যানে রয়েছে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ২০১২ সালে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতার ফাইনালের আগে স্পেন প্রতিপক্ষ ইতালির চেয়ে এক দিন বেশি বিশ্রাম পেয়েছিল। সেই ম্যাচে ইতালিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন।
২০১৬ সালে পর্তুগালও ফাইনালের আগে ফ্রান্সের তুলনায় বেশি বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছিল। সেই আসরেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নেয় পর্তুগাল।
২০২২ সালের বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা যায়। ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের তুলনায় বেশি বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
শুধু একটি ক্ষেত্রেই এই ধারার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। ২০১৭ সালে নারীদের বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক একই দিনে নিজেদের সেমিফাইনাল খেলেছিল। ফলে কোনো দলই অতিরিক্ত বিশ্রামের সুবিধা পায়নি। তাই ওই ফাইনালে বিশ্রামের বিষয়টি কোনো প্রভাব ফেলেনি।
তবে স্পেন নিজেও একবার এই পরিসংখ্যানের ব্যতিক্রম হয়েছিল। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তারা দ্বিতীয় সেমিফাইনাল খেলেছিল। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের তুলনায় কম বিশ্রাম পেয়েও ফাইনালে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
তারপরও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনালের আগে অতিরিক্ত এক দিনের বিশ্রাম শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম, দীর্ঘ যাতায়াত এবং কঠিন আবহাওয়ার মধ্যে এই বাড়তি বিশ্রাম স্পেনের খেলোয়াড়দের দ্রুত শারীরিক শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করতে পারে। তাই ফাইনালে ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হলে মাঠে নামার আগেই স্পেনকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।