আমাদের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে এবং কিছু অভ্যাস বর্জন করে আমরা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারি।
আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন
আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ ধরনের খাবার হজমে সাহায্য করে এবং শরীরে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দেয়, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
উৎস: শিম, মটরশুঁটি, ডাল, ফলমূল, আলু এবং শিকড়জাতীয় সবজি খোসাসহ রান্না করে খেলে প্রচুর আঁশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া হোলগ্রেইন আটার রুটি এবং বাদামি চালও খাওয়া যেতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর চর্বি এড়িয়ে চলুন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে হলে অস্বাস্থ্যকর চর্বিজাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে।
স্যাচুরেটেড ফ্যাট (জমাটবাঁধা চর্বি): চিজ, দই, লাল মাংস, মাখন, কেক, বিস্কুট এবং নারকেল তেলে এ ধরনের চর্বি বেশি থাকে। এগুলো শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ট্রান্স ফ্যাট: ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত খাবার এবং বেকারি আইটেমে প্রায়ই এ ধরনের চর্বি থাকে। এটিও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করুন কিছু চর্বি আমাদের হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী।
অ্যাসচুরেটেড ফ্যাট: তেলসমৃদ্ধ মাছ (স্যালমন, টুনা), বাদাম, বীজ, অ্যাভোকাডো এবং উদ্ভিজ্জ তেল (অলিভ, সানফ্লাওয়ার, কর্ন) এ ধরনের চর্বির ভালো উৎস। এগুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
দুধ: ফ্যাটমুক্ত বা কম চর্বিযুক্ত (স্কিমড বা সেমি-স্কিমড) দুধ পান করুন।
মাংস: লাল মাংসের বদলে মুরগির মাংস (চামড়া ছাড়া) বা মাছ খাওয়া ভালো। গরুর মাংস রান্না করার আগে দৃশ্যমান চর্বি
ফেলে দিন।
অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন
খাবারে অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। লবণে থাকা সোডিয়াম রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রক্তের আয়তন এবং চাপ বেড়ে যায়। এতে হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে। রান্নায় অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন এবং কাঁচা লবণ খাওয়া একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন
ভিটামিন ও খনিজ পদার্থসমৃদ্ধ খাবার আমাদের সুস্থ রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সাধারণত সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকার মাধ্যমে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া সম্ভব।
ধূমপান বর্জন করুন
ধূমপান হৃৎপিণ্ডের অন্যতম প্রধান শত্রু। তামাকের বিষাক্ত পদার্থ উচ্চ রক্তচাপ, ধমনি ও শিরার রোগ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে তামাক পাতা, জর্দা, গুল ইত্যাদি থেকেও দূরে থাকতে হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..